“সমালোচনাকে যারা উপেক্ষা করতে পারে, তারাই সামনে এগিয়ে যেতে পারে” উদ্দীপক ও 'আমার পথ' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি যথার্থ ।
'আমার পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম মানুষকে পূর্ণ এক 'আমি'র সীমায় ব্যাপ্ত করতে চেয়েছেন, যেখানে সত্যের উপলব্ধিই কবির প্রাণপ্রাচুর্যের উৎসবিন্দু। তাঁর কাছে সত্য পথই শেষ কথা। তাই তিনি সত্যের পথে থাকার জন্য 'আমি' আহ্বানে সবাইকে সাড়া দিতে বলেছেন । তিনি মনে করেন, কেবল এই পথই সকল সমালোচনা প্রতিহত করতে পারে।
উদ্দীপকের ইশতিয়াক সাহেব সত্যকে অবলম্বন করে সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। এছাড়া তিনি পরিবেশ সংরক্ষণেও কাজ করেন। তিনি অনেক মানুষের উপকার করার পরও তাঁকে নিয়ে নানা সমালোচনা হয়। কিন্তু তিনি তাতে দমে না গিয়ে আপন গতিতে তাঁর কাজ করে যান। তিনি তার সত্যের ওপর আস্থা রাখেন বলেই সকল সমালোচনাকে প্রতিহত করতে পারেন। আলোচ্য প্রবন্ধেও এ দিকটি উঠে এসেছে।
'আমার পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সকলকে আপন সত্তায় বিশ্বাসী হতে বলেছেন, যার পথ হবে নিরেট সত্য পথ। সমালোচনা ও লোকভয়কে তুচ্ছ করে আপন সত্য দ্বারা মনুষ্যত্ববোধের জাগরণ ঘটাতে পারলেই সকল বিরোধ ও অসাম্যের ইতি ঘটবে এটাই প্রাবন্ধিকের বিশ্বাস। আলোচ্য উদ্দীপকের ইশতিয়াক সাহেবের মাঝেও একই চেতনা অনুরণিত হয়েছে। সেখানেও প্রাণপ্রাচুর্যের উৎসবিন্দু হিসেবে সত্যের উপলব্ধির কথাই বলা হয়েছে, এ কারণেই তিনি কোনো কিছুকেই তোয়াক্কা করেন না। তাঁর মূল উদ্দেশ্য জনকল্যাণ সাধন । তিনি যদি সমালোচনার ভয় করতেন তবে ভালো কাজগুলো তাঁর পক্ষে করা সম্ভব হতো না। এ দিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটিকে যথার্থ বলা যায় ।