উদ্দীপকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে নিজ অবস্থান তৈরিতে অটল থাকা।
আমার পথ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক অন্তরের গোলামি বলতে পরাবলম্বনকে বুঝিয়েছেন আর এই পরাবলম্বনের কারণে মানুষের মধ্যে বাইরের গোলামীও দেখা যায়। নিজের সত্যকে নিজের কর্ণধার করলে, নিজেকে চিনলে এবং নিজের শক্তির ওপর অটুট বিশ্বাস থাকলে মানুষ আত্মনির্ভর হয়ে ওঠে। আত্মনির্ভ মানুষকে অন্তরের গোলামি থেকে মুক্ত করে। কিন্তু পরনির্ভরশীলতা মনে দাসত্ব তৈরি করে। এর ফলে মানুষের বাইরের গোলামীও ফুটে ওঠে। আর এই অন্তরের গোলামী এবং বাইরের গোলামীর মনোভাব থেকে মানুষ নিজে নিষ্ক্রিয় থেকে অন্যের উপর নির্ভর করে থাকে। এর ফলে মানুষ দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে থাকে।
কারো মিথ্যা বা ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় করে, পরালম্বনের মতো দাসত্ব থেকে মুক্ত থাকা প্রসঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম আলোচ্য উক্তিটি করেছেন। 'আমার পথ' প্রবন্ধে কাজী নজরুল পরাবলম্বনকে সবচেয়ে বড় দাসত্ব বলেছেন। নিজে নিষ্ক্রিয় থেকে অন্য একজন মহাপুরুষকে প্রাণপণে ভক্তি করলেই দেশ উদ্ধার হয়ে যাবে না, নিজের বা জাতির মুক্তি আসবে না। যার অন্তরে গোলামীর ভাব সে বাইরের গোলামী থেকে মুক্তি পাবে কীভাবে? কবি ভুল করতে রাজি আছেন, কিন্তু ভণ্ডামি করতে প্রস্তুত নন। তিনি বলেছেন, তাঁর এমন কোন গুরু নেই, যার খাতিরে তিনি কোন সত্যের আগুন অস্বীকার করে মিথ্যাকে প্রশয় দেবেন। তিনি এ ধরনের দাসত্ব থেকে মুক্ত।
আমার পথ প্রবন্ধে এবং উদ্দীপকে যে বিষয়টি একই রকম তা হচ্ছে মিথ্যা ভন্ডামিকে প্রশ্রয় না দিয়ে পরা লম্বন কে প্রশ্রয় না দিয়ে সমাজে কষ্ট করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা।