সত্যের আলোকে উদ্ভাসিত নিজের অন্তরের রূপটিই 'আমিত্ব' আর এই 'আমিত্বই' মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখায়- এটিই মতিন সাহেবের ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়েছে।
'আমার পথ' প্রবন্ধে লেখক এমন এক 'আমি'র জাগরণ প্রত্যাশা করেছেন, যে সত্য প্রকাশে নির্ভীক ও অসংকোচ। এই 'আমি' মানুষকে সত্যের আলোয় নিজেকে চিনে নিতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের মতিন সাহেব সত্যের অনুসারী। তাই তাঁর সাহস আছে ভুলকে। ভুল ও সঠিককে সঠিক বলার। তাঁর এই স্পষ্টভাষী স্বভাব অনেকের কাছে দম্ভ মনে হলেও তিনি তা নিয়ে চিন্তিত নন। একপর্যায়ে তিনি তাঁর এই চরিত্রের জন্যই পদোন্নতিপ্রাপ্ত হন। 'আমার পথ' প্রবন্ধে লেখক মানুষকে। যেমন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, মতিন সাহেব তেমনই একজন মানুষ। তিনি নিজের আমিত্বে বিশ্বাসী ও মিথ্যা বিনয়ের সমর্থনকারী নন।
লেখক প্রতিটি মানুষকে পূর্ণ এক 'আমি'র সীমায় ব্যাপ্ত করতে চেয়েছেন। মানুষ যদি সত্যকে ধারণ করতে পারে তবে নিজেই হতে পারে নিজের কর্ণধার। রুদ্রতেজে মিথ্যার ভয়কে জয় করে সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত করে এই 'আমি' সত্তা। এই আমিত্ব অবিনয়কে মেনে নিতে পারে। কিন্তু অন্যায়কে সহ্য করতে পারে না। এই আমিত্ব ভুল করতে রাজি কিন্তু ভণ্ডামি করতে প্রস্তুত নয়। ভুল জেনেও তাকে ঠিক বলে চালিয়ে দেওয়ার কপটতা এই 'আমি'র দৃষ্টিতে ভণ্ডামি। উদ্দীপকের মতিন সাহেব এই আমিত্বের আলোয় উদ্ভাসিত। তাই তো তিনি মিথ্যা বিনয় প্রকাশ থেকে বিরত থাকেন। ভুলকে তোষামোদের আবরণে সঠিক করতে যান না। প্রবন্ধে উল্লিখিত সত্যের কর্ণধার যেমন মাথা উঁচু করে বাঁচেন, মতিন সাহেবও তেমনি নিজের আমিত্বকে আগলে মাথা উঁচু করে বাঁচেন।