বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এনজিওসমূহের ভূমিকা অনেক বেশি। বর্তমানে দেশি বিদেশি প্রায় ১২০০ এর মতো NGO বাংলাদেশে কাজ করছে। পল্লি উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষার বিস্তার, পরিবেশ উন্নয়ন, দুর্যোগব্যবস্থাপনা, নারীর ক্ষমতায়ন, হস্ত ও কুটির শিল্পের বিকাশসহ নানাবিধ সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে এনজিওদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এদেশের দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর মাঝে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের মাধ্যমে এনজিও প্রায় ২ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা বিস্তার এবং সাক্ষরতার প্রসারে NGO দের ভূমিকা সবারই জানা। অনেক এনজিও কৃষি উন্নয়নে কৃষকদের উন্নত বীজ, সার ও প্রযুক্তি সরবরাহ করে থাকে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমেও এনজিওগুলো সরকারের সহায়ক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে এজিওসমূহ অনেক ক্ষেত্রেই নেতৃত্বের আসনে আসীন। নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকার রক্ষা, সচেতনতা সৃষ্টি এবং নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এনজিওগুলোর তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। আর্থসামাজিক উন্নয়নে এনজিওদের এরূপ অসংখ্য নজির রয়েছে। কিন্তু এসব কার্যক্রম সবসময় বিতর্কমুক্ত নয়। অনেক সময় অনুৎপাদনশীল ক্ষেত্রে ঋণ সমাজে সমস্যা বৃদ্ধি করে। এনজিওদের কার্যক্রমে কোথাও আইন ও দেশবিরোধী কাজও দেখা যায়। তবে তা খুব বেশি নয় । সার্বিক বিচারে এনজিওদের অবদান আমাদের দেশের উন্নয়নে চোখে পড়ার মতো।