উদ্দীপকের 'অ' দেশে মূলধন গঠনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও নেতিবাচক অনেক বিষয় রয়েছে। নিচে বিশ্লেষণপূর্বক 'অ' দেশের মূলধন গঠনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হলো- (পুঁজিবাদী ও মিশ্র পুঁজিবাদী সমাজে ব্যক্তিগত সঞ্চয়, কারবারি প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় ও সরকারি সঞ্জয় থেকে আর্থিক সঞ্জয় সৃষ্টি হয়) তবে সঞ্চয় সৃষ্টিতে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। মূলত ব্যক্তি বা পরিবারের আয় ও ভোগব্যয়ের ওপর সঞ্জয়ের সামর্থ্য নির্ভর করে। ভোগব্যয় স্থির থেকে ব্যক্তির আয় যত বাড়বে, তার সঞ্চয়ের পরিমাণও তত বেশি হবে। এছাড়া পরিবারের আয়তন ছোট অথবা জনগণ সাধারণ জীবনযাত্রার মানে অভ্যস্ত হলে সঞ্চয়ের সামর্থ্য বেশি হয়। সঞ্চয়ের সামর্থ্যের পাশাপাশি সঞ্চয়ের ইচ্ছা থাকলে তবেই সয় বাড়ে। পরিবারে সদস্যদের অভ্যাস, জীবনযাত্রা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয় দ্বারা সঞ্চয়ের ইচ্ছা প্রভাবিত হয়। উদ্দীপকের 'অ' দেশের তেল উত্তোলনে প্রচুর লোক নিয়োজিত হওয়াই মানুষের আয় বৃদ্ধি পায় এবং সঞ্চয়ের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় যা উক্ত দেশের মূলধন গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আর্থিক সঞ্চয় সংগ্রহ করে তা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যোগান দেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। সিঞয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে তার সুষ্ঠু ব্যবহার সরকারের আর্থিক ও রাজস্বনীতির ওপরও বহুলাংশে নির্ভরশীল। মূলধন গঠনের শেষ পর্যায়ে সঞ্চিত অর্থকে বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধন দ্রব্যে রূপান্তর করা দরকার। এজন্য প্রয়োজন হলো দেশে সুদৃঢ় আর্থসামাজিক বুনিয়াদ গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা।
কিন্তু, 'অ' দেশে তেল ছাড়া অন্যান্য উৎপাদন ক্ষেত্র সেভাবে বিকশিত না হওয়ায় ব্যাংকে অলস জমার পরিমাণ বাড়তে থাকে, যা মূলধন গঠনের নেতিবাচক ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।