মূলধন গঠন মূলত সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে। একটি আধুনিক ও অবাধ অর্থনীতিতে মূলধন গঠনের প্রক্রিয়া তিনটি স্তরে বিভক্ত, যথা- ১. আর্থিক সঞ্চয় সৃষ্টি ২. সঞ্চয় সংগ্রহ ও ঋণদান এবং ৩. আর্থিক সঞ্চয়কে বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধনী দ্রব্যে রূপান্তর।
১. আর্থিক সঞ্চয় সৃষ্টি: পুঁজিবাদী ও মিশ্র পুঁজিবাদী সমাজে ব্যক্তিগত সঞ্চয়, কারবারি প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় ও সরকারি সঞ্চয় থেকে আর্থিক সঞ্চয় সৃষ্টি হয়। তবে সঞ্চয় সৃষ্টিতে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ব্যক্তিগত সঞ্চয় নির্ভর করে সঞ্চয়ের সামর্থ্য ও সঞ্চয়ের ইচ্ছার ওপর। মূলত ব্যক্তি বা পরিবারের আয় ও ভোগ ব্যয়ের ওপর সঞ্চয়ের সামর্থ্য নির্ভর করে। ভোগ ব্যয় স্থির থেকে ব্যক্তি বা পরিবারের আয় যত বাড়ে, তার সঞ্চয়ের পরিমাণও তত বেশি হয়। সঞ্চয়ের সামর্থ্যের পাশাপাশি সঞ্চয়ের ইচ্ছা থাকলে তবেই সঞ্চয় বাড়ে।
২. আর্থিক সঞ্চয় সংগ্রহ ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে ব্যবহার: মূলধন গঠনের জন্য দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আর্থিক সঞ্চয় সংগ্রহ করে তা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যোগান দেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারের আর্থিক ও রাজস্ব নীতি ইত্যাদির কার্যকর ভূমিকা রয়েছে।
৩. বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা: মূলধন গঠনের শেষ পর্যায়ে সঞ্চিত অর্থকে বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধনী দ্রব্যের রূপান্তর করা দরকার। এজন্য প্রয়োজন হলো দেশে সুদৃঢ় আর্থ-সামাজিক বুনিয়াদ গড়ে তোলা এবং বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। সুতরাং বলা যায়, উপরিউল্লিখিত প্রক্রিয়ায় একটি দেশে মূলধন গঠিত হয়।