শিল্প প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য মূলধনের যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। যেমন- মূলধন ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। কোনো শ্রমিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে, যে পরিমাণ দ্রব্য উৎপাদন করতে পারে, যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে তা অপেক্ষা অনেক বেশি দ্রব্য উৎপাদন করতে পারে। মূলধন ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং তাদের দৈহিক শ্রম লাঘব হয়। ভারি ও কঠিন কাজগুলো এখন মানুষের দৈহিক শক্তির পরিবর্তে যন্ত্রপাতির সাহায্যে করা হয়ে থাকে। মূলধন ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানের শ্রম ও ভোগের মধ্যে সংযোগ সাধন করা সম্ভবপর হয়। মূলধন ব্যবহারের ফলে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে অধিক দ্রব্য উৎপাদিত হয়। এর ফলে একক প্রতি উৎপাদন ব্যয় কম হয়, এবং ক্রেতারা কম মূল্যে দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করতে পারে। মূলধন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। কারণ, মূলধন বিনিয়োগের পরিমাণ যত বাড়ে দেশে ততই বেশি সংখ্যক মানুষের জন্য কাজের সৃষ্টি হয়। এ জন্য মূলধন বৃদ্ধির সাথে সাথে কর্মসংস্থানের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। মূলধন যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে সাহায্য করে। প্রায় প্রত্যেক উৎপাদন কার্যেই যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। এটা ক্রয় করার জন্য বিপুল অর্থের দরকার হয়। মূলধনই সেই অর্থ সরবরাহ করে। মূলধনের সাহায্যে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে অধিক উৎপাদন সম্ভবপর। এভাবে মূলধন কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষেত্রে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করে।
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান উৎপাদন ব্যবস্থায় মূলধন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উন্নত দেশসমূহের দ্রুত ও ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলে রয়েছে মূলধনের ভূমিকা।