উদ্দীপকে উল্লিখিত জরিনা বেগমের দেশের সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দেশের সঞ্চয় ও মূলধন গঠনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সুদের হার সঞ্চয়কারীকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। তাই ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন মেয়াদি আমানতের ওপর উচ্চহারে সুদ প্রদান করলে জনসাধারণের সঞ্চয় প্রবণতা বাড়ে। ফলে মূলধন গঠনও বাড়ে। আর নিম্নহারে সুদ প্রদান করলে সঞ্চয় ও মূলধন গঠন ব্যাহত হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, জরিনা বেগমের দেশে সরকার বিভিন্ন মেয়াদি আমানতের সুদের হার ১০% থেকে কমিয়ে ৮% করেছে। অর্থাৎ, বিভিন্ন মেয়াদি আমানতের ওপর সুদের হার (১০ - ৮) বা ২% কমেছে। এর ফলে এ সকল আমানত হতে প্রাপ্ত মুনাফা বা আয় হ্রাস পাবে। তাই জনগণ এ সকল আমানতে কম সঞ্চয় করবে।
একটি দেশের মূলধন গঠন নির্ভর করে জনগণের সঞ্চয়ের ইচ্ছা বা আগ্রহের ওপর। যখন সঞ্চয়ের ওপর সুদের হার কম থাকে, তখন জনগণ সঞ্চয়ে কম আগ্রহী হয়। ফলে আর্থিক সঞ্চয় সংগ্রহের পরিমাণও কম হয়। যার ফলে নতুন কলকারখানা স্থাপন, রাস্তা ও সেতু ইত্যাদি নির্মাণে ব্যয় বরাদ্দ হ্রাস পায়। যার ফলে মূলধনি দ্রব্য উৎপাদনে বিনিয়োগ হ্রাস পায়। এতে মূলধন গঠন ও বাধাগ্রস্ত হয়। সুতরাং বলা যায়, জরিনার বেগমের দেশের সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ দেশটির আর্থিক সঞ্চয়ের পরিমাণ কমবে এবং মূলধন গঠন হ্রাস পাবে।