উদ্দীপকের আলোকে রিকার্ডোর খাজনা তত্ত্ব বিশ্লেষণ করা হলো- রিকার্ডো বলেন, খাজনা হচ্ছে জমির মৌলিক ও অবিনশ্বর ক্ষমতার প্রতিদান। এ ক্ষমতা বলতে তিনি জমির উর্বরাশক্তিকেই নির্দেশ করেন। তার মতে, সব জমির উর্বরাশক্তি সমান নয়, এক্ষেত্রে উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্ট জমি রয়েছে। এর উৎপন্ন ফসলের পার্থক্যের ওপরই খাজনা নির্ভর করে। সুতরাং বিভিন্ন প্রকার জমির উর্বরাশক্তির পার্থক্যের জন্যই খাজনার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের জনাব মুনিরুজ্জামানের প্রথম তিন একর জমির মোট আয় ১২০০০ টাকা, দ্বিতীয় তিন একর জমির মোট আয় ৮০০০ টাকা এবং তৃতীয় তিন একর জমির মোট আয় ৬০০০ টাকা। প্রত্যেক জমিতে ফসল চাষের মোট ব্যয় ৬০০০ টাকা। এগুলোকে ছকে ও লেখচিত্রে উপস্থাপন করে খাজনা তথ্যের ব্যাখ্যা করা যায়-
চিত্রে ভূমি অক্ষে জমির শ্রেণি, লম্ব অক্ষে আয় ও ব্যয় নির্দেশ করা হয়েছে। ১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণির জমিকে যথাক্রমে A, B ও C হিসেবে নির্দেশ করা হলো। চিত্র থেকে বোঝা যায়, A আয়তক্ষেত্র ১২০০০ টাকার আয়, B আয়তক্ষেত্র ৮০০০ টাকার আয় এবং C আয়তক্ষেত্র ৬০০০ টাকার আয় নির্দেশ করে। এক্ষেত্রে প্রতিটি শ্রেণির জমিতে উৎপাদন ব্যয় ৬০০০ টাকা হলে C শ্রেণির জমিকে প্রান্তিক জমি বলা যায়। C আয়তক্ষেত্রের সমান ক্ষেত্র A ও B ক্ষেত্র থেকে বাদ দিলে যে ছায়াকৃত অংশ পাওয়া যায়, তাই A ও B শ্রেণির জমির খাজনা। যেমন A শ্রেণির জমির খাজনা = ১২০০০ - ৬০০০ টাকা = ৬০০০ টাকা এবং B শ্রেণির জমির খাজনা = ৪০০০ - ৬০০০ টাকা = ২০০০ টাকা।