জনাব ছাবেরের মূলধন স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যে উপাদানগুলো ভূমিকা পালন করেছে সেগুলো নিম্নরূপ :
১.সুদের হার : বিনিয়োগ চাহিদা, অর্থ ব্যবস্থায় অর্থের যোগান, কর ব্যবস্থা ইত্যাদি কারণে সময়, স্থান, মূলধনের চাহিদা ও ব্যবহারের তারতম্যের জন্য ঋণ মূলধনের সুদের হার যেখানে বেশি থাকে সেক্ষেত্রে মূলধন বেশি গতিশীল হয়। কিন্তু বিপরীত অবস্থায় সুদের হার কম হলে মূলধনের গতিশীলতার হ্রাস পায় ।
২.বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা : দেশের ভেতরে বা অন্য দেশে যেখানে মূলধন বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা বেশি, মূলধনের মালিক সেখানে মূলধন বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। কারণ বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা বেশি থাকলে বিনিয়োগ লাভজনক হয় এবং মূলধনের প্রান্তিক দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বেশি হয়। বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা বলতে উন্নত অবকাঠামো, শক্তি ও জ্বালানি সম্পদের সহজলভ্যতা, প্রসারিত বাজার, দক্ষ মানব সম্পদ, উন্নত প্রযুক্তি, অনুকূল সরকারি বিনিয়োগ নীতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রভৃতিকে বোঝায়। বাংলাদেশ অপেক্ষা ভিয়েতনাম বা মালয়েশিয়ায় যদি বিনিয়োগের এসব সুযোগ-সুবিধাসহ মূলধনের চাহিদাও বেশি থাকে, তাহলে বাংলাদেশ বা অনুরূপ কোনো দেশ থেকে ওই দুটি দেশে মূলধনের স্থানান্তর বাড়বে। অর্থাৎ সেসব স্থানে মূলধন বেশি মাত্রায় গতিশীল হবে ।
অন্যান্য কারণ : বিশ্বায়নের প্রভাবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক, বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা, বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগযোগ্য মূলধনের প্রাচুর্যতা, মূলধন ঘাটতি, দেশি-বিদেশি মূলধনের চাহিদা এবং লাভজনক বিনিয়োগ ইত্যাদি কারণে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মূলধনের গতিশীলতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয় ।