কোনো শহর বা এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি, রাস্তাঘাট নির্মাণ, ব্যবসাকেন্দ্র, নগরায়ন বা শিল্পায়নের ফলে সেখানকার জমিজমা ও বাসা-বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। এর ফলে সে স্থানের জমির মালিক কোনো বাড়তি পরিশ্রম ও বিনিয়োগ ছাড়াই যে অতিরিক্ত আয় করে তাকে অনুপার্জিত আয় বলে।
উদ্দীপকে বাড়ি ভাড়া বাবদ, ইসমাইল সাহেবের আয় বৃদ্ধিটি তাই অনুপার্জিত হয়। বাংলাদেশের উপজেলা প্রশাসন পদ্ধতি বাস্তবায়নের ফলে উপজেলা সদরে রাস্তাঘাট নির্মাণ, অফিস-আদালত স্থাপন, ব্যবসায় বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। এর দরুন সেখানকার জমির দাম বৃদ্ধি পেয়ে অনুপার্জিত আয় সৃষ্টি হয়েছে। স্বল্পকালে মানবসৃষ্ট মূলধনী সামগ্রী থেকে অতিরিক্ত আয় উপার্জন হয় এর অস্থিতিস্থাপক চাহিদার কারণে। দীর্ঘকাল মানবসৃষ্ট মূলধনের চাহিদার সাথে যোগান বাড়ানো যায়। কিন্তু জমির যোগান স্থির হওয়ার দীর্ঘকালে এর চাহিদা বাড়লেও যোগান বৃদ্ধি সম্ভব নয়। তাই এ উৎস হতে যে অতিরিক্ত আয়, স্বল্পকালে লাভ করা যায় তা দীর্ঘকালেও বলবৎ থাকে।
উদ্দীপকের ইসমাইল সাহেবের বাসা ভাড়া হতে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। কেননা ভবিষ্যতেও এ ধরনের অতিরিক্ত আয় অর্জিত হতে থাকবে। তবে এর ব্যতিক্রমও হতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা সময়ের পরিবর্তনের সাথে উক্ত স্থানের আবেদন হ্রাস পেলে দীর্ঘকাল এ ধরনের আয় আর প্রযোজ্য না হয়ে তখন স্বাভাবিক আয় চলতে থাকবে।উদাহরণস্বরূপ পানাম নগর। কালের বিবর্তনে তার আবেদন হ্রাস পাওয়ায় সেখানকার জমির অনুপার্জিত আয় আর বর্তমানে নেই।সুতরাং বলা যায়, দীর্ঘকালে ইসমাইল সাহেবের এ ধরনের আয় আর প্রযোজ্য থাকবে না।