উদ্দীপকের ছকটিতে খাজনা নির্ধারণের রিকার্ডোর পার্থক্যমূলক খাজনা তত্ত্বটি তুলে ধরা হয়েছে।
রিকার্ডোর মতে, জমির উর্বরতার পার্থক্যের কারণে খাজনার উদ্ভব হয়। তিনি মনে করেন, যে জমিতে উৎপাদিত ফসলের দাম ও উৎপাদন ব্যয় সমান হয়, তাকে প্রান্তিক বা খাজনাবিহীন জমি বলে। প্রান্তিক জমির তুলনায় উৎকৃষ্ট জমিতে যে অতিরিক্ত উৎপাদন বা উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়, তার মূল্যই হলো খাজনা।
উদ্দীপকের ছকটিতে দেখা যায়, জমির শ্রেণিভেদে উৎপাদন ভিন্ন ভিন্ন অর্থাৎ, ১ম শ্রেণিতে ১৫, ২য় শ্রেণিতে ১২ এবং ৩য় শ্রেণিতে ১০ কুইন্টাল উৎপাদন হয়। কিন্তু প্রতি কুইন্টাল পণ্যের দাম স্থির অর্থাৎ, ৪০ টাকা। এই দামের ভিত্তিতে মোট আয় হলো- ১ম শ্রেণির = ১৫ × ৪০ = ৬০০ টাকা, ২য় শ্রেণির = ১২ × ৪০ = ৪৮০ টাকা এবং ৩য় শ্রেণির = ১০ × 80 = ৪০০ টাকা। রিকার্ডোর তত্ত্ব অনুযায়ী, ৩য় শ্রেণির জমিটি হলো প্রান্তিক জমি। যেখানে মোট আয় ও মোট ব্যয় সমান হওয়ায় খাজনা শূন্য। অর্থাৎ, মোট ব্যয় = ৪০০ টাকা। এই ব্যয়কে স্থির ধরে খাজনা নির্ণয় করলে দেখা যায় ১ম শ্রেণির খাজনা = (৬০০ – ৪০০) = ২০০ টাকা, ২য় শ্রেণির খাজনা = (৪৮০ – ৪০০) = ৮০ টাকা এবং ৩য় শ্রেণির খাজনা = (৪০০ – ৪০০) = ০ টাকা সুতরাং, জমির উর্বরতার পার্থক্যের কারণে সৃষ্ট এই অতিরিক্ত আয়ই হলো খাজনা, যা রিকার্ডোর পার্থক্যমূলক খাজনা তত্ত্বের মূল কথা।