উদ্দীপকে উল্লিখিত, ঋণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রমগুলোর মধ্যে আমি পরিমাণগত পদ্ধতিগুলোকে অধিক কার্যকর মনে করি।ঋণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য হলো বাজারে অর্থের জোগান ও চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে মুদ্রাস্ফীতি বা মুদ্রাসংকোচনের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। এ পদ্ধতিগুলোকে সাধারণত পরিমাণগত (Quantitative) ও গুণগত (Qualitative)-এ দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। পরিমাণগত পদ্ধতিগুলো সামগ্রিকভাবে বাজারে ঋণের পরিমাণকে প্রভাবিত করে, অন্যদিকে গুণগত পদ্ধতিগুলো ঋণের দিক বা ব্যবহারকে প্রভাবিত করে।
১. পরিমাণগত পদ্ধতি: উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাংক হারের পরিবর্তন এবং খোলাবাজার কার্যক্রম হলো পরিমাণগত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিগুলো দেশের সামগ্রিক ঋণের জোগানকে সরাসরি প্রভাবিত করে। ব্যাংক হার পরিবর্তন করা হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের ব্যয় পরিবর্তিত হয়, যা তাদের ঋণ প্রদানের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। খোলাবাজার কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারি বিল ও বন্ড ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে বাজারে অর্থের জোগান বাড়াতে বা কমাতে পারে। এ. পদ্ধতিগুলো ব্যাপক পরিসরে এবং দ্রুত কার্যকর হয়।২ . গুণগত পদ্ধতি: উদ্দীপকে উল্লিখিত ঋণের রেশনিং এবং নৈতিক প্ররোচনা হলো গুণগত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিগুলো সাধারণত ততটা কার্যকর হয় না। নৈতিক প্ররোচনা নির্ভর করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সহযোগিতার ওপর, যা সবসময় পাওয়া যায় না। ঋণের রেশনিং একটি কঠোর পদ্ধতি এবং এর প্রয়োগ অনেক সময় জটিল ও কঠিন হয়।
সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত ঋণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রমগুলোর মধ্যে ব্যাংক হারের পরিবর্তন ও খোলাবাজার কার্যক্রমের মতো পরিমাণগত পদ্ধতিগুলো অধিক কার্যকর, কারণ এগুলোর প্রভাব সুদূরপ্রসারী এবং দ্রুত, যা সামগ্রিকভাবে ঋণ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।