প্রান্তিক জমির কোনো খাজনা নেই কারণ
১. উৎপাদন ব্যয় ও আয় সমান হওয়া
রিকার্ডোর মতে, খাজনা হলো জমির উর্বরতার পার্থক্যের ফল। একটি সমাজে যখন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন ক্রমান্বয়ে সবচেয়ে উর্বর জমি থেকে কম উর্বর জমিতে চাষাবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রান্তিক জমি হলো সেই জমি যা চাষ করতে যে পরিমাণ খরচ (মজুরি, বীজ, সার ইত্যাদি) হয়, উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে ঠিক সেই পরিমাণ টাকাই পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, এখানে মোট আয় = মোট উৎপাদন ব্যয়। যেহেতু কোনো উদ্বৃত্ত বা অতিরিক্ত মুনাফা থাকে না, তাই এই জমি থেকে খাজনা দেওয়ার মতো বাড়তি অর্থ অবশিষ্ট থাকে না।
২. উর্বরতার অভাব (নিচুতলার জমি)
খাজনা মূলত জমির 'মৌলিক ও অবিনশ্বর' ক্ষমতার ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। প্রান্তিক জমি হলো চাষের আওতায় আসা সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানের জমি। এর চেয়ে ভালো মানের জমিগুলো (উত্তম ও মধ্যম) থেকে যে বাড়তি উৎপাদন পাওয়া যায়, তাকেই খাজনা বলা হয়। প্রান্তিক জমির নিচে আর কোনো আবাদযোগ্য জমি থাকে না বলে এর কোনো তুলনামূলক সুবিধা নেই।
৩. অসীম যোগান (তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে)
রিকার্ডোর তত্ত্ব অনুযায়ী, যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজে প্রচুর পরিমাণে নিকৃষ্ট মানের জমি পড়ে থাকে, ততক্ষণ সেই জমির জন্য কাউকে অর্থ দিতে হয় না। যখনই এই জমির চাহিদা বেড়ে যায় এবং এর চেয়েও খারাপ কোনো জমিতে চাষাবাদ শুরু হয়, তখনই বর্তমান প্রান্তিক জমিটি 'খাজনাযুক্ত' জমিতে পরিণত হয়। কিন্তু বর্তমানের সবচেয়ে নিকৃষ্ট আবাদি জমিটি সবসময়ই খাজনাহীন থাকে।