বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাস রচনায় উদ্দীপকে উল্লেখিত নিদর্শনগুলোর ভূমিকা মূল্যায়ন করো ।
উত্তর: বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাস রচনায় উদ্দীপকে উল্লেখিত নিদর্শন তথা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ মুখ্য উপাদান হিসেবে ভূমিকা পালন করে। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কোনো দেশ কিংবা জাতির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস বা উপাদান হিসেবে স্বীকৃত। কেননা সভ্যতার পথে মানুষের যাত্রার ইতিহাস মূলত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ বিশ্লেষণের মাধ্যমেই জানা যায়। একইভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রত্নস্থান যেমন— মহাস্থানগড়, ময়নামতি, পাহাড়পুর, উয়ারী-বটেশ্বর প্রভৃতিতে প্রাপ্ত প্রত্ননিদর্শন পরীক্ষা- নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করে প্রত্নতত্ত্ববিদরা এখানকার সামাজিক ইতিহাস রচনার চেষ্টা চালান । প্রাচীনকাল থেকে মধ্যযুগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সমাজকাঠামোর প্রকৃতি নির্ধারণে পাহাড়পুরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সহায়ক ভূমিকা রাখে। এখানকার গন্ধেশ্বরীর মন্দির, সোমপুর বিহার, পাথর নির্মিত বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি প্রমাণ করে যে, প্রাচীনকালে (মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন আমল) এ অঞ্চলে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের বেশ প্রভাব ছিল। সে সময়ের রাজারা কারুকার্য খচিত বিশাল আয়তনের ধর্ম মন্দির স্থাপনে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, রাষ্ট্রীয় কাজে ধর্ম বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার ছিল। পাহাড়পুরে আবিষ্কৃত প্রাচীন মুদ্রার ধরন বিশ্লেষণ করে বলা যায়, তখন সমাজে মুদ্রা অর্থনীতির বিকাশ ঘটেছিল। আর মুদ্রা অর্থনীতির বিকাশ সমাজে সামাজিক অসমতা বা স্তরবিন্যাসের অস্তিত্বকে প্রমাণ করে। এ সভ্যতার তাম্রলিপি ও শিলালিপিতে উৎকীর্ণ ভূমি ক্রয়-বিক্রয়, ভূমিদান ইত্যাদির দলিল থেকে মনে করা যেতে পারে যে, ভূসম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানা ছিল । উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত পাহাড়পুরের নিদর্শনসমূহ বিশ্লেষণ করে তদানীন্তন বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাসের একটি চিত্র তথা তৎকালীন সামাজিক ইতিহাস রচনা করা যায় ।
HSC Sociology 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Sociology 2nd Paper · সৃজনশীল
বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাস রচনায় উদ্দীপকে উল্লেখিত নিদর্শনগুলোর ভূম…
বিএএফ শাহীন কলেজ, ঢাকা · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর