মানবসভ্যতায় ছক-২ এ উল্লিখিত সভ্যতাটি অর্থাৎ সিন্ধু সভ্যতার অবদান অনস্বীকার্য।
সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা সভ্যতা সিন্ধু সভ্যতা নামে পরিচিত। ঐতিহাসিক আর. সি মজুমদারের মতে, দ্রাবিড়রা সিন্ধু সভ্যতার পত্তন করেছে। সিন্ধু সভ্যতার রাস্তাগুলো ছিল বেশ প্রশস্ত এবং চওড়া। এছাড়া ছোট ছোট গলি রাস্তাও ছিল। রাস্তায় নিয়মিত ব্যবধানে ল্যাম্পপোস্টের ব্যবস্থাও চালু ছিল। নগরের ভবনগুলো ছিল পোড়া ইটের তৈরি। সিন্ধু সভ্যতার স্বাস্থ্যকর নাগরিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রয়োজনীয় গোসলখানা, পয়ঃপ্রণালি, পৌরসভা, সুশৃঙ্খল প্রশাসন, উন্নত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার, খাজনা আদায় প্রথা তথা নগরজীবনের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান ছিল। উদ্দীপকেও এসব বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করা হয়েছে। যা সিন্ধু সভ্যতাকেই নির্দেশ করে।
সিন্ধু সভ্যতায় বিদ্যমান বড়, মাঝারি আকারের প্রাসাদ এবং আবাসিক ভবনগুলো ধ্বংসাবশেষ থেকে সমাজে বিদ্যমান সমাজিক স্তরবিন্যাসের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। ভবনগুলো উন্নত শিল্পমানের না হলেও আরামে বসবাসযোগ্য ছিল। প্রতিটি বাড়ির ছিল প্রশস্ত বারান্দা-জানালা। বাড়িগুলোতে কূপ, নর্দমা ও গোসলখানারও সমাবেশ ছিল। বর্তমান নাগরিক জীবনের সব উপকরণই সেখানে বিদ্যমান ছিল, সিন্ধু সভ্যতার মানুষ তথা দ্রাবিড়দের সামাজিক প্রথা, ধ্যান-ধারণা আর্যরা অনুকরণ করেছিল। এমনকি হিন্দুধর্মের মৌলিক ধ্যান-ধারণার কিছু অংশ সিন্ধু সভ্যতা থেকে গৃহীত বলে অনুমান করা হয়। ভারতীয় শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ইত্যাদিতে এ সভ্যতার অবদান অনস্বীকার্য।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, মানবসভ্যতায় সিন্ধু সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।