ছক-ক দ্বারা প্রাচীন 'প্রস্তর যুগকে নির্দেশ করা হয়েছে।
প্রাচীনকালের যে সময় মানুষ পাথরের তৈরি হাতিয়ারকে ভিত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করত সেই যুগের নাম প্রাচীন প্রস্তর যুগ। এ যুগের মানুষরা ছিল যাযাবর প্রকৃতির। খাদ্য সংগ্রহের জন্য তারা বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াত। এ যুগের মানুষ খাদ্য সংগ্রহ ও শিকার অর্থনীতি নির্ভর ছিল। তারা ফলমূল সংগ্রহ, বন্য পশু শিকার ও মাছ ধরে জীবনধারণ করত। এজন্য তারা বিভিন্ন হাতিয়ার যেমন- দা বাঁ হাত কুড়াল ব্যবহার করত। যা ছিল পাথরের তৈরি ও অপেক্ষাকৃত ভোঁতা। সভ্যতার বিকাশে এ যুগের উল্লেখযোগ্য একটি আবিষ্কার হলো আগুনের আবিষ্কার। এ যুগে ক্ল্যানের প্রাধান্য ছিল। ক্ল্যানের সদস্যরা তাদের পূর্বপুরুবদের বিভিন্ন পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে স্মরণ করত।
উদ্দীপকের ছক-ক এ যাযাবর জীবন, শিকার ও সংগ্রহভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ভোঁতা ও অমসৃন হাতিয়ার, আগুনের আবিষ্কার, ক্ল্যানের প্রাধান্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্য উপরে আলোচিত প্রাচীন প্রস্তর যুগের সমাজজীবনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ যুগের মানুষের জীবন ছিল সীমিত গণ্ডিতে আবদ্ধ, প্রকৃতিনির্ভর। এ যুগের মানুষের ভাষা ছিল অক্ষরহীন। এ যুগের মানুষ প্রথম দিকে কোনো পোশাক না পরলেও পরবর্তী সময়ে গাছের পাতা, ছাল-বাকল, পশুর চামড়া প্রভৃতি দিয়ে শরীর ঢেকে নিজেদের বৈরী আবহাওয়া থেকে রক্ষা করত। সর্বোপরি বলা যায়, সমাজজীবনে প্রাচীন প্রস্তর যুগের অবদান অনস্বীকার্য।