রনি পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার নামক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে বেড়াতে গিয়েছিল ।
বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর নামক স্থানে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার অবস্থিত। উক্ত বিহারের মতো এত বড় বৌদ্ধবিহার ভারতবর্ষের আর কোথাও আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। এখানে আবিষ্কৃত সোমপুর মহাবিহার, সত্যপীর ভিটা, জৈনবিহার প্রভৃতি নিদর্শনের কারণে পাহাড়পুর মহাবিহারকে বৌদ্ধধর্মের স্বর্ণযুগ মনে করা হয়। উদ্দীপকের রনি যেখানে বেড়াতে যায় সেটিও বৌদ্ধর্মের স্বর্ণযুগ বলে খ্যাত। এছাড়া সে সেখানে বৌদ্ধদের দার্শনিক দিকের নিদর্শন দেখেছে। এ থেকে বোঝা যায়, রনি পাহাড়পুরে ঘুরতে গিয়েছিল।
পাহাড়পুর বিহারে প্রাপ্ত ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ বাংলাদেশের সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। পাহাড়পুরে উদ্ধারকৃত প্রাচীন সম্পদের মধ্যে প্রস্তর মূর্তি অন্যতম। এখানে বৌদ্ধমূর্তি ছাড়াও হিন্দুদের অনেক দেবীর মূর্তি পাওয়া গিয়েছে। প্রস্তর মূর্তি ছাড়াও পাহাড়পুরে অনেকগুলো পোড়ামাটির ফলক পাওয়া গিয়েছে। কিছু পোড়ামাটির ফলকে - বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ দেব-দেবীর চিহ্ন দেখা যায়। একদিকে যেমন পদ্মপাণি, মঞ্জুশ্রী ইত্যাদি মহাযানপন্থি বৌদ্ধ দেব-দেবীর মূর্তি পাওয়া গিয়েছে অন্যদিকে শিব, ব্রহ্ম, বিষ্ণু, গণেশ, সূর্য প্রভৃতি ব্রাহ্মণ দেবতার মূর্তিও স্থান পেয়েছে। পাহাড়পুরে অসংখ্য মুদ্রাও আবিষ্কৃত হয়েছে, যার প্রায় অধিকাংশ মুদ্রাই মুসলিম আমলের। এখানে বাগদাদের প্রসিদ্ধ খলিফা হারুন-অর রশীদের একটি রৌপ্যমুদ্রাও পাওয়া গিয়েছে। বাংলার সঙ্গে বাগদাদের যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল এ মুদ্রা তাই প্রমাণ করে। পাহাড়পুরের বেশির ভাগ মুদ্রাই ষোড়শ শতাব্দীর।
পরিশেষে বলা যায়, পাহাড়পুর আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ তৎকালীন মানুষের পুরকৌশল এ স্থাপত্যবিদ্যার উৎকর্ষকে ফুটিয়ে তোলে।