উদ্দীপকে সিন্ধু সভ্যতার কথা বলা হয়েছে।
সিন্ধু সভ্যতা হলো এশিয়ার প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর প্রায় সমযুগের, যা সিন্ধু নদীকে কেন্দ্র করে বিকাশ ও সমৃদ্ধি লাভ করেছিল। এ সভ্যতায় নগর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান ছিল। যেমন— নগরের রাস্তাগুলো ছিল বেশ প্রশস্ত, যার পাশে সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্টের ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া এখানে উন্নত পয়ঃপ্রণালি, সুশৃঙ্খল প্রশাসন, উন্নত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শক্তিশালী সরকার প্রভৃতি সুবিধা বিদ্যমান ছিল। উদ্দীপকের দ্বারা এ সভ্যতাকেই নির্দেশ করা হয়েছে। কেননা উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশের এমন নগরের কথা বলা হয়েছে যেগুলো নদী তীরবর্তী এলাকায় গড়ে উঠেছিল, যা ছিল সুপরিকল্পিত। নগরগুলোত সিন্ধু সভ্যতার মতোই নাগরিক জীবনের সকল সুযোগ- সুবিধা বিদ্যমান ছিল।
সিন্ধু সভ্যতার বেশিরভাগ ঘরবাড়িই শুকনো ইটের দ্বারা নির্মিত ছিল। এখানকার নারী ও পুরুষ উভয়ই সুন্দর ঝলমলে পোশাক এবং অলংকার ব্যবহার করত। সেখানে কার্পাস ও পশম বস্ত্রের ও প্রচলন ছিল। বৈদিক যুগের মতো বর্ণপ্রথা না থাকলেও সিন্ধু সভ্যতায় চার ধরনের শ্রেণি চোখে পড়ে। শাসক, পুরোহিত, চিকিৎসক ও জ্যোতিষী ছিল প্রথম শ্রেণি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ছিল যথাক্রমে যোদ্ধা ও ব্যবসায়ীরা। আর চতুর্থ শ্রেণিতে ছিল কৃষক, জেলে, তাঁতি ইত্যাদি। সিন্ধু সভ্যতার অধিকাংশ জনগণ ছিল কৃষিজীবী। তারা ধান, গম, বার্লি, যব, কার্পাস, খেজুর ইত্যাদি উৎপাদন করত। এছাড়া এখানকার ব্যবসায়ী শ্রেণি মিসর, মেসোপটেমিয়া, পারস্য ও এশিয়ার সমগ্র অঞ্চলের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কে গড়ে তুলেছিল।