দৃশ্যপট-২ এর যুগটি হলো নব্য প্রস্তর যুগ। "সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে এ যুগের অবদান অনস্বীকার্য" বলে আমি মনে করি।
প্রস্তর যুগের শেষ ধাপ হচ্ছে নব্য প্রস্তর যুগ। এ যুগের মানুষেরা উন্নতমানের হাতিয়ার তৈরিতে পারদর্শী ছিল। ফলে হাতিয়ারগুলো ছিল যথেষ্ট তীক্ষ্ণ, মসৃণ ও ধারালো। এ যুগের উল্লেখযোগ্য হাতিয়ারগুলো হচ্ছে চাকু, কান্তে কুঠার, কোঁদাল, গাঁইতি, বর্শা, তীর ইত্যাদি। গর্ডন চাইল্ডের যুক্তি হলো, একবার যেই নব্য প্রস্তর যুগে হাতিয়ার তৈরি শুরু হয়ে গেল, অমনি জমি চাষ অনেক সহজ হলো। এ যুগে কৃষিকাজ ও পশুপালন অর্থনীতির উদ্ভব হলে সর্বপ্রথম খাদ্যে নিশ্চয়তা আসে। খাদ্যের সঠিক যোগান, প্রাকৃতিক পরিবেশের অনুকূল অবস্থা এ যুগের মানুষকে সভ্য জীবন গঠনের সুযোগ করে দিয়েছিল। এ যুগেই মানুষ যাযাবর জীবন ত্যাগ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে এবং সমাজে পারিবারিক কাঠামো গড়ে তোলে। সাংস্কৃতিক বিকাশ যেকোনো সমাজ বা গোষ্ঠীর অন্যতম দিক। নব্য প্রস্তর যুগেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এ যুগের সাংস্কৃতিক বিকাশে উল্লেখযোগ্য সংযোজনের মধ্যে রয়েছে মৃৎপাত্র তৈরি, কৃষিকাজে বিভিন্ন হাতিয়ারের ব্যবহার, বয়নশিল্প ও স্থাপত্যশিল্পের উদ্ভব, স্থায়ী বসতি নির্মাণ কৌশল, বাগিচা বা উদ্যান চাষাবাদ, বিনিময় ব্যবস্থা অতি প্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস, সম্পত্তির চেতনা ইত্যাদি। অনেক প্রত্নতাত্ত্বিকের ধারণা, পশুকে পোশ মানানো ও কৃষির উন্নতিই ছিল নব্য প্রস্তর যুগের প্রকৃত ভিত্তি। এ যুগের মানুষ আত্মার ধারণায় বিশ্বাস করতো। তাদের ধারণা ছিল আত্মা বা প্রেতাত্মা মানুষের ক্ষতি করতে পারে। এজন্য তারা আত্মা-প্রেতাত্মা বা অতিপ্রাকৃতশক্তির হাত থেকে বাচার জন্য নানারকম আচার অনুষ্ঠান পালন করতো। এসবের পাশাপাশি এ যুগের মানুষেরা প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের (গাছপালা, নদীনালা, পাহাড়-পর্বত ইত্যাদি) পূজাও করতো।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, নব্য প্রস্তর যুগ মানবসমাজের ইতিহাসে পরিবর্তনের দিক থেকে একটি বৈপ্লবিক যুগ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ যুগের বিভিন্ন পর্যায়ক্রমিক ধারা বর্তমান সমাজ ও সভ্যতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।