উদ্দীপকে বিশেষ উদ্ভাবন দ্বারা কৃষির উদ্ভাবনকে বোঝানো হয়েছে, যা মানবসভ্যতার বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
নব্যপ্রস্তর যুগের অধিবাসীরাই প্রথম বীজ বপন, গাছ লাগানো, ফসলকাটা এবং তা প্রক্রিয়াজাতকরণ করে কৃষিকাজের সূচনা করে। এই কৃষি অর্থনীতি নব্যপ্রস্তর যুগের অধিবাসীদের স্বনির্ভরতার দিকে অগ্রসর হতে সাহায্য করেছে। খাদ্যের নিশ্চয়তা আসার পরে তারা তাদের চিন্তা উদ্ভাবনী কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে। কৃষি উৎপাদন করে তাদের প্রয়োজন মিটানোর পর যখন কিছু অবশিষ্ট থাকতে শুরু করলো, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের কৃষিতে শ্রমের প্রয়োজন কমে যায় এবং তারা হাতের তৈরি কিংবা গৃহে বসে তৈরি করা যায় এমন কাজের দিকে মনোনিবেশ করলো । আর তাদের এ হস্ত শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলো বাজার। কৃষির পাশাপাশি তারা অকৃষিজ পেশায় নিয়োজিত হতে শুরু করলো যা এক সময় নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটাতে থাকে ।
নব্যপ্রস্তর যুগের অধিবাসীরা একেক জন একেক এলাকায় সীমানা নির্ধারণ করে কৃষিকাজ শুরু করে। তখন থেকে ভূমিতে অলিখিতভাবে ব্যক্তি মালিকানার একটি ধরন গড়ে উঠে। সমাজে আয় ও পেশার তারতম্যের ভিন্নতা দেখা দেয়। ফলে সমাজে স্তরবিন্যাসের স্বাভাবিক একটি কাঠামো তৈরি হয়। এ যুগেই কৃষিকে কেন্দ্র করে সভ্য জীবনের সূত্রপাত ঘটে। আগের যুগের অবাধ যৌনাচার কমে আসে এবং তারা যাযাবর জীবন ত্যাগ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, মানব সভ্যতার বিকাশে নব্যপ্রস্তর যুগের এই কৃষি উদ্ভাবনের ভূমিকাকে কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই ।