উদ্দীপকে উল্লেখিত ধ্বংসাবশেষগুলো বাংলাদেশের সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত সব নিদর্শনের সামাজিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। এগুলো থেকে প্রাচীন বাংলা এবং তৎপরবর্তী সময়ের সব সমাজ ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক তথা সামগ্রিক জীবনধারা সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া যায়। এখানকার স্থাপত্য শিল্প ও প্রাচীরের গায়ে জ্যামিতিক নকশা, সিঁড়ি, পিরামিড, পদ্মের পাঁপড়ি প্রভৃতি প্রাক-মোগল যুগের মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের ইঙ্গিত দেয়। তাছাড়া প্রাক-মোগল আমলের একটি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ, আরব পর্যটক মাহীসওয়ারের মাজার এবং মসজিদও আছে। মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত বাংলার সর্বপ্রাচীন শিলালিপি প্রাকৃত ভাষায় লিখিত। এটাই বাংলায় পাওয়া মৌর্যযুগের একমাত্র সাহিত্যিক নিদর্শন ।
মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপাদান থেকে ধারণা করা হয়, এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল এবং অন্যান্য হিন্দু সামন্ত রাজাদের রাজধানী ছিল। এখানকার প্রাচীর দুর্গে প্রাপ্ত চিত্র ফলক থেকে হিন্দু, মুসলিম ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রভাব অনুমিত হয়। এখানে একটি পাথরের মূর্তির মাথায় পদচিহ্ন অঙ্কিত আছে। অনেকে তা থেকে ধারণা করেন যে, এটি হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মের ওপর ব্রাহ্মণ্য ধর্মের বিজয়ের প্রতীক।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ বাংলাদেশের সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।