উদ্দীপকে বর্ণিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির সামাজিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি তথা ময়নামতির সামাজিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ময়নামতিতে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ থেকে যেসব প্রাচীন সম্পদ আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলোতে প্রাচীন বাংলার সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনের একটি চিত্র ফুটে ওঠে। এসব ধ্বংসাবশেষ থেকে সে যুগের সংস্কৃতির যে উপাদান পাওয়া গেছে তাতে সহজেই বলা যায় ময়নামতি কেবল অপরূপ সৌন্দর্যে সৌন্দর্য্যমন্ডিত ছিল না, অতীতেও এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে সমৃদ্ধ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। এদেশের সামাজিক ইতিহাস রচনায় ময়নামতির ধ্বংসাবশেষ বিশেষ অবদান রেখেছে। এখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্লেষণে জানা যায়, কুমিল্লা অঞ্চলে কয়েকশত বছরব্যাপী বৌদ্ধধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি তথা বৌদ্ধ সভ্যতার স্বর্ণযুগ কেটেছে। ময়নামতিতে প্রাপ্ত স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ নির্মিত অলংকারাদি, লোহার দ্রব্যাদি, কাঠ নির্মিত দ্রব্যাদি, মৃৎপাত্রাদি, অলংকৃত ইট, তামার পাত্র এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিসপত্র তৎকালীন সমাজের জীবন ও সভ্যতার এক জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে। ময়নামতিতে মুদ্রা আবিষ্কার সাক্ষ্য দেয় এখানে একটি সুদক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু ছিল। এছাড়া এখানে প্রাপ্ত তাম্রশাসনে রাজার জমি দানের বিষয়টি লিপিবদ্ধ আছে। এর দ্বারা বোঝা যায় এখানে ভূমিতে ব্যক্তিমালিকানা ছিল। আর ভূমিতে ব্যক্তিমালিকানা সামাজিক স্তরবিন্যাসের অস্তিত্বকে চিহ্নিত করে। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, কুমিল্লার ময়নামতির সামাজিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম এবং বাংলাদেশে মানবসভ্যতার বিকাশের ক্ষেত্রে এ এলাকার অবদানকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না।
HSC Sociology 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Sociology 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির সামাজিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব…
উদ্দীপক
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর