উদ্দীপকের রফিক ও তার দাদার বাড়ির সামাজিক বৈপরীত্য দ্বারা প্রকৃতপক্ষে সমাজভেদে সংস্কৃতির ভিন্নতার বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি বলতে 'প্রধানত গ্রামীণ ও নগর সংস্কৃতিকে বোঝায়। এ সংস্কৃতি পরস্পর থেকে ভিন্ন। বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ সনাতন জীবনধারায় পরিচালিত। এ দেশের গ্রামের প্রধান অর্থব্যবস্থা হলো কৃষি। প্রায় সব গ্রামবাসীই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত। অন্যদিকে নগরজীবনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যই অধিকাংশ মানুষের পেশা। নগরে বাড়ি-ঘর নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ ব্যবহার করা হয়। পক্ষান্তরে গ্রামের বাড়িঘরগুলো মূলত টিন, বাঁশ, ছন, কাঠ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি। আবার খাদ্যাভ্যাসেও এ দুই সমাজের মানুষের মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। যেমন- শহুরে সমাজের মানুষেরা বিভিন্ন উন্নতমানের হোটেল রেস্টুরেন্টে গিয়ে চাইনিজ, থাইফুড, কাবাব, লাচ্ছি, কফি ইত্যাদি খায়। যা গ্রামীণ সমাজের খাদ্যাভ্যাস থেকে ভিন্নতর। শহরে খাবার-দাবার পরিবেশনের জন্য ব্যবহৃত আসবাবপত্রগুলোও উন্নতমানের সিরামিকস, মেলামাইন ইত্যাদি দ্বারা তৈরি। অন্যদিকে গ্রামীণ সমাজে এখনও অনেকে সেকেলে থালা-বাসন ব্যবহার করে। শহর ও গ্রামীণ সমাজের ছেলেমেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা-দীক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রেও পার্থক্য দেখা যায়। যেমন- শহর সমাজের ছেলেমেয়েরা একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি, গান শেখা, ছবি আঁকা, অভিনয় করা ইত্যাদি শিখে থাকে, যা গ্রামীণ ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। তবে গ্রামীণ সমাজের একটি চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য হলো সেখানকার ছেলেমেয়েরা একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি মক্তবে আরবি শিখতে যায়।
উদ্দীপকের রফিকের দাদার গ্রামীণ সমাজ ও রফিকের শহুরে সমাজের মাঝেও এ ধরনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, যা গ্রামীণ ও নগর সমাজের সাংস্কৃতিক ভিন্নতাকেই তুলে ধরছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের নগর ও গ্রামীণ সমাজের সংস্কৃতিতে ভিন্নতা রয়েছে।