বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সংস্কৃতির ব্যবধান তত্ত্বের প্রভাব। পরিলক্ষিত হয়। প্রতিটি সমাজের মতো বাংলাদেশের সমাজও পরিবর্তনশীল।
বিভিন্ন কারণে সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। আমাদের সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতি একই সময়ের মধ্যে একই গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে না। উদ্দীপকের যেমন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ব্যবহার জ্ঞান না থাকার ফলশ্রুতিতে নতুন সমস্যার সৃষ্টি করছে। তেমনি বাংলাদেশেও বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতির ব্যবধানে সামাজিক সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের কৃষি, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন প্রভৃতির ক্ষেত্রে এই ব্যবধান লক্ষ করা যায়। বিশ্বে কৃষিক্ষেত্রে যে কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছে, তার অনুপ্রবেশ বাংলাদেশে যতটা হয়েছে, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাবে তার ব্যবহার ততটা বাড়েনি। শিল্পক্ষেত্রেও ঠিক তেমনি উন্নত প্রযুক্তি থাকলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ শ্রমিকের অভাবে তা অব্যবহৃত থাকে। কেবল কৃষি ও শিল্পেই নয় দেশের অফিস আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সর্বত্রই প্রযুক্তির সকল সুবিধা রয়েছে। কিন্তু যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় তা মানুষের কোনো কাজে আসছে না। অন্যদিকে, অসংখ্য লোক-প্রশিক্ষণের অভাবে বেকার হয়ে পড়ছে। দেশে উন্নত যানবাহন থাকলেও রাস্তার সংকীর্ণতা ও মানুষের ট্র্যাফিক আইন না মানার প্রবণতার ফলে দেশে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আবার সামগ্রিক উন্নতির সাথে প্রচলিত আইনের সংস্কার না হওয়াতে মানুষের পুরোনো অভ্যাস পরিবর্তিত হচ্ছে না। শিক্ষা ও চিকিৎসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যন্ত্রপাতি থাকলেও শিক্ষা ও চিকিৎসার আধুনিকায়ন হচ্ছে না।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের বস্তুগত সংস্কৃতির ব্যাপক উন্নতি হচ্ছে; কিন্তু একই সাথে মানুষের মানসিকতা ও যথাযথ আইনের অভাবে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে, যা সংস্কৃতির ব্যবধান তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।