বাংলাদেশের সামগ্রিক ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখতে পাওয়া যায় বিশেষত উৎপাদন ব্যবস্থা, শিক্ষা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, ভাষা রাজনৈতিক ক্ষেত্র, চিকিৎসা ব্যবস্থায় এ ব্যবধানের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য নিহিত রয়েছে।
আমরা উৎপাদন ব্যবস্থায় দেখি পাওয়ার টিলার, সেচ যন্ত্র, মাড়াই মেশিনের প্রচলন আছে কিন্তু অনেক উৎপাদক বা কৃষকই এর ব্যবহার জানেন না। এরূপ ব্যবধান সাংস্কৃতিক ব্যবধানের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এ দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমরা দেখতে পাই সৃজনশীল আনয়ন করা হয়েছে অথচ এখনও অনেক শিক্ষকই এর যথাযথ প্রকৃতি উপলব্ধি করতে পারেন না, বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতির এরূপ ব্যবধান ও সাংস্কৃতিক ব্যবধানকে নির্দেশ করে। এছাড়া প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কিন্তু গ্রামীণ সমাজের অনেক মানুষই এখনও এর যথাযথ ব্যবহার জানেন না। আমরা উদ্দীপকের পঞ্চাশোর্ধ জামিলার দিকে তাকালে এরূপ চিত্র দেখতে পাই। যা সাংস্কৃতিক ব্যবধানকে ইঙ্গিত করে। এভাবে চিকিৎসাক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রনির্ভর চিকিৎসার পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবচ, কবিরাজি চলছে, শহুরে মানুষ অনেক এগিয়ে গেলেও গ্রামের মানুষ পিছিয়ে আছে।
তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় সাংস্কৃতিক ব্যবধানের চিত্র দেখতে পাওয়া যায়।