উদ্দীপকের ঘটনাসমূহ সমাজবিজ্ঞানের যে মৌল প্রত্যয়কে নির্দেশনা করে তা হলো সংস্কৃতি। সমাজে বসবাস করতে গিয়ে মানুষ যে সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করে, তাই সংস্কৃতি।
তাই বলা হয়, মানুষ সংস্কৃতি সৃজনকারী প্রাণী। উদ্দীপকে গবেষক জোসেফ বাঙালি সংস্কৃতি লক্ষ করেন। সংস্কৃতি প্রত্যয়টিকে বিভিন্ন মনীষী বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করেছেন। যেমন- সাহিত্যিকগণ মানুষের চিন্তা-ভাবনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, কামনা-বাসনা, কল্পনা ইত্যাদিকে বোঝানোর জন্য সংস্কৃতি প্রত্যয়টি ব্যবহার করে থাকেন। আবার সামাজিক নৃবিজ্ঞানীরা যেকোনো প্রকার উদ্ভাবনকেই সংস্কৃতি বলে গণ্য করেন। আর সমাজবিজ্ঞানীরা এ প্রত্যয়টিকে ব্যাখ্যা করেন এভাবে, সংস্কৃতি হলো সার্বিক জীবন প্রণালি। একজন ব্যক্তি তার জীবনে যা কিছু করে সবই সংস্কৃতির অন্তর্গত অর্থাৎ সংস্কৃতি হলো আমাদের গোটা জীবনধারা। এ প্রসঙ্গে সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের উক্তিটি প্রণিধানযোগ্য। তার মতে, আমরা যা তাই আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের যা আছে বা ব্যবহার করি তাই সভ্যতা। মূলত মানুষের চিন্তাভাবনা, কল্পনা, আচার-আচরণ, অভ্যাস, বিশ্বাস ইত্যাদিকে বোঝানোর জন্য সংস্কৃতির প্রত্যয় ব্যবহার করা হয়। সংস্কৃতির বহুল উদ্ধৃত সংজ্ঞাটি হলো ব্রিটিশ নৃবিজ্ঞানী ই বি টেইলর প্রদত্ত। তিনি সংস্কৃতি বলতে বুঝিয়েছেন, "সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত আচার-আচরণ, ব্যবহার, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা, নীতি-প্রথা, আইন ইত্যাদির জটিল সমন্বয়ই হলো সংস্কৃতি।" এখানে প্রধানত সংস্কৃতির মনোবৈজ্ঞানিক এবং আদর্শগত উপাদানের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে মানুষের অন্তর্গত এবং বহির্জগতের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে সংস্কৃতি।