ছকে উল্লিখিত প্রথম সালটি দ্বারা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে বোঝানো হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ব্যাপক।
ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ। পাকিস্তানের ৫৬.৪% জনগণের ভাষা ছিল বাংলা। অন্যদিকে, উর্দু ছিল মাত্র ৩.২৭ ভাগ মানুষের ভাষা। শাসকগোষ্ঠী তবুও বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করলে সর্বস্তরের বাঙালি এর প্রতিবাদ জানায়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই স্লোগান নিয়ে ছাত্র-জনতা মিছিল বের করলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে রফিক, জব্বার, বরকত প্রমুখ নিহত হন। পরবর্তীতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। এর ফলে বাঙালিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ হয়। এ আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় বাঙালিরা স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর হয়। '৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ, '৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, '৬৬-এর ছয় দফা '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, '৭০-এর নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সবই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অনুপ্রেরণার ফসল।
তাই বলা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী।