উদ্দীপকে বর্ণিত শিরীনের রাজশাহীতে দেখা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বর্ণনা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত শিরীনের রাজশাহীতে দেখা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী হলো সাঁওতাল। সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। ১৮৩৬ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষের বিহার রাজ্যে সাঁওতালদের জন্য একটি এলাকা নির্দিষ্ট করে দেয়, যা সাঁওতাল পরগণা নামে পরিচিত। পরে সেখানে বহিরাগত মহাজন ও ব্যবসায়ীরা এসে তাদের ওপর নির্যাতন শুরু করলে রূপ নেয় বিদ্রোহে, যা সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। এ বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশ সরকার মহাজনদের পক্ষ নিলে প্রায় ১০ হাজার বিদ্রোহী নিহত হয়। এরপরই তারা বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ তথা বৃহত্তর রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, দিনাজপুর, রংপুর ও জয়পুরহাটসহ প্রভৃতি জেলায় বসতি স্থাপন করে। সাঁওতাল সমাজের মূলভিত্তি হলো গ্রামপঞ্চায়েত। তাদের গ্রাম প্রধানকে বলা হয় 'মানযহি' বা 'মাঝি'। তার নেতৃত্বেই গ্রামের যাবতীয় কার্যকলাপ সম্পাদিত হয়। সাঁওতালদের মধ্যে সনাতন ধর্ম এবং খ্রিষ্টধর্মের সুস্পষ্ট প্রভাব লক্ষ করা যায়। তাদের ভাষায় দেবতাকে বলা হয় বোঙ্গা। তাদের প্রধান দেবতা হলো 'মারাং বুরু'। আদিকালে মারাং বুরুর পূজায় নরবলি দেওয়া হতো, বর্তমানে লাল ফুল ও ফল দিয়ে এ পূজার আয়োজন করা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, শিরীন রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে বেড়াতে গেলে তার সাথে একটি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর পরিচয় হয়, যাদের প্রধান দেবতার নাম 'মারাং বুরু' এবং তাদের গ্রাম প্রধানের নাম 'মাঝি'। এমনকি ইতিহাসে এ ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর একটি বিদ্রোহের ঘটনা বিখ্যাত হয়ে আছে। এসব আলোচনা উপরে বর্ণিত সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, শিরীনের রাজশাহীতে দেখা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো সাঁওতাল।
HSC Sociology 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Sociology 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে বর্ণিত শিরীনের রাজশাহীতে দেখা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর …
উদ্দীপক
Dhaka · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর