উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তথা গারোদের পারিবারিক ও অর্থনৈতিক জীবনধারা বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ।
গারোদের পারিবারিক জীবনধারা: গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক। ফলে গারোদের মধ্যে সম্পত্তি ও বংশ নাম, মর্যাদা মাতৃধারায় মা থেকে মেয়েতে বর্তায়। গারো দম্পত্তি স্ত্রীর বাবার গৃহে বসবাস করে। অর্থাৎ সেখানে মাতৃবাস নীতি অনুসরণ করা হয়। তবে ইদানিং কিছু শিক্ষিত গারো দম্পত্তি স্বামীর পিতার গৃহে বাস করে। গারোদের মধ্যে উত্তরাধিকার লাভ করে ছোট মেয়ে, তাকে নোকনা বলে। আর নোকনার বোনেরা যারা সম্পত্তি পায় না তাদেরকে এগেট বলে। নোকনার জন্য তার পিতামাতাই স্বামী বা পাত্র পছন্দ করেন। নোকনার স্বামীকে বলা হয় 'নোকরম'। যার অর্থ পরিবারের খুঁটি বা স্তম্ভ।
গারোদের অর্থনৈতিক জীবনধারা: গারো অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। তারা নারী-পুরুষ উভয়ে কৃষিকাজ ও পশুপালন করে। একসময় জুম চাষই ছিল তাদের প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি। ১৯৫০ সালে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে জুম চাষ বন্ধ হওয়ায় এর পরিবর্তে তারা ক্রমশ কৃষিভিত্তিক হলে চাষে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা, কৃষিজ উৎপাদিত ফসলের মধ্যে ধান, লাউ, কুমড়া, তিল, শশা, বেগুন, মরিচ, সরিষা আরও নানা জাতের সবজি, আনারস ও অন্যান্য ফল চাষের ওপর জোর দিয়েছে। তাছাড়া কুটির শিল্প, পশুপালন, কাঠবিক্রি ও ফলমূল বিক্রি করা তাদের অন্যতম অর্থোপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
তাই আমরা বলতে পারি, অন্যান্য উপজাতির ন্যায় গারোদের পারিবারিক ও আর্থসামাজিক জীবনধারায় বেশ বৈচিত্র্যতা বিদ্যমান রয়েছে।