উদ্দীপকের তিথি গারো নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ।
বাংলাদেশে বসবাসরত গারোরা ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোণা ও টাঙ্গাইল জেলায় বাস করে। গারো সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। মায়ের মৃত্যুর পর পরিবারের কনিষ্ঠ কন্যা বা নোকণা সম্পত্তি পায়। এ থেকে বোঝা যায়, দৃশ্যপট-১ এর তিথি গারো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
গারো সমাজে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়ে থাকে। তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব হলো ওয়ানগালা । সাধারণত অক্টোবর বা নভেম্বরে এ উৎসব উদযাপিত হয়। শীত আসার আগে তাদের বর্ষ পঞ্জিকার সপ্তম বা দশম মাস মেজাফাং মাসে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ানগালা উৎসব সম্পর্কে বলা হয়, “যখন বনের মের্গং নামক পাহাড়ি ফুল ফুটতে শুরু করে তখনই ওয়ানগালা আয়োজনের সময় হয় এবং পূর্ণিমা চাঁদের আলো থাকতে থাকতেই ওয়ানগালা শেষ করতে হয়।” ভালো ফলনের জন্য দেবদেবীর সুদৃষ্টি কামনার উদ্দেশ্যেই তারা এ উৎসব করে। গ্রামের সবার ফসল ঘরে তোলা হলে নকমা সবাইকে ডেকে এনে ভোজের ব্যবস্থা করেন এবং ঐ উৎসবের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নেন। এ অনুষ্ঠানটি মূলত তিন পর্বে বিভক্ত। যথা— রুগালা, সা, সাৎ, স. ওয়া এবং দামা গগাতা' বা 'জলওয়াত্তা' বা 'রুসতা'। তাদের অধিকাংশ উৎসব কৃষিকে কেন্দ্র করেই উদ্যাপিত হয়। এর পাশাপাশি খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী গারোরা বড়দিন এবং খ্রিষ্টানদের পালিত অন্যান্য উৎসবও পালন করে থাকে ।