দৃশ্যপট-২ দ্বারা সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে। সাঁওতালদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং উৎসব মূলগোষ্ঠী তথা বাঙালি জনগোষ্ঠী থেকে ভিন্ন প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল তথা বৃহত্তর রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, রংপুর, গাইবান্ধা, ও জয়পুরহাট জেলায় সাঁওতালরা বাস করে। সাঁওতালদের ধর্মাচরণ ও পূজা-পার্বণ পর্যবেক্ষণ করে তাদেরকে জড় উপাসক কিংবা ভূতপূজক বলে আখ্যায়িত করা যায়। তাদের ভাষায় দেবতাকে বলা হয় বোঙ্গা। উদ্দীপকে দৃশ্যপট-২ এর জুথি সোরেন রাজশাহী অঞ্চলে বাস করে। জুথি সোরেনরা মূলত জড় উপাসনা এবং তারা বোঙ্গা দেবতাদের পূজা করে । যা সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ । সাঁওতালদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং উৎসব বাঙালি জনগোষ্ঠীর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাঁওতালদের মধ্যে সনাতন ধর্ম এবং খ্রিষ্টধর্মের প্রভাব লক্ষ করা যায়। তাদের আদি দেবতা হলো সূর্য। তাদের ভাষায় দেবতাকে বলা হয় বোঙ্গা, সাঁওতাল নারী ও পুরুষরা শরীরের বিভিন্ন অংশে উল্কি চিহ্ন ব্যবহার করে। অন্যদিকে বাঙালির স্বাভাবিকভাবে মুসলিম ধর্মের অনুসায়ী পাশাপাশি হিন্দুধর্মের মানুষও রয়েছে। সাঁওতালদের নিজস্ব উৎসবের মধ্যে রয়েছে বাহা, সোহরায় ও এরোক উৎসব। ঐতিহাসিক কাল থেকে তাদের সমাজে যে উৎসবটি পালিত হয়ে আসছে তা হলো সোহরায়। এটি তাদের সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক উৎসব। ফসল যার তোলার জন্য দেবতাকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য পৌষ-মাঘ মাসে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, বাঙালিদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব হলো ঈদ-উল-ফিতর, ঈদুল আযহা, পহেলা বৈশাখ প্রভৃতি ।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সাঁওতালদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও উৎসব মূলধারার জনগোষ্ঠী বা বাঙালি জনগোষ্ঠী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।