উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্কৃতি ২ বাংলাদেশের সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারাকে নির্দেশ করছে।
সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তথা রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম প্রভৃতি জেলায় বাস করে। একইভাবে উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্কৃতি ২ এ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বসবাস করে। এছাড়া তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যগীত হলো 'ঝুমুর'। উদ্দীপকের এসব তথ্য বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাঁওতালদের জীবনধারাকেই প্রতিফলিত করেছে।
সাঁওতালদের সমাজ ব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক । পিতার সম্পত্তি পুত্ররা সমানভাবে পেলেও কন্যাদের সম্পত্তিতে কোনো অধিকার থাকে না। পুত্রহীন ব্যক্তির সম্পদ তার সহোদর ভাইয়েরা পায়। সাঁওতালরা ১২টি গোত্র বা টোটেমে বিভক্ত। এ গোত্রগুলোকে 'পারিস' বলা হয়। তাদের মধ্যে সামাজিক নেতৃত্ব প্রচলিত এবং সমাজে চার স্তর বিশিষ্ট সামাজিক আদালত প্রচলিত । ঐতিহ্যগতভাবে সাঁওতালদের সমাজে অন্তর্গোত্র বিবাহ নিষিদ্ধ এবং নবদম্পতি স্বামীর পিতার বাড়িতে বসবাস করে। সাঁওতালরা একসময় শিকারের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করলেও বর্তমানে তাদের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর। নারী-পুরুষ উভয়ই জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করে। কৃষির পাশাপাশি অনেকে শালপাতা, বাঁশ ও বেত দ্বারা কুটির শিল্পজাত পণ্য তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের সমাজে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের সামাজিক উৎসব পালিত হয়। ফসল ঘরে তোলার পর তারা দেবতাকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য 'সোহরাই' উৎসব পালন করে, যা তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব ।