উদ্দীপকে 'মান্দি' দ্বারা গারো নৃগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে। গারোদের জীবন ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ।
গারোরা মঙ্গোলীয় নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। গারোদের ভাষার স্থানীয় নাম 'মান্দি'। যা উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাদের ভাষায় কোনো লিপি বা অক্ষর নেই। বাংলাদেশে বসবাসরত গারোদের ৯০% ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী তাদের সৃষ্টিকর্তার নাম 'টাটারা বাবুগা'। গারো পরিবার মাতৃসূত্রীয়। তাদের মধ্যে সম্পত্তি ও বংশ নাম মাতৃধারায় তথা মা থেকে মেয়েতে বর্তায়। সাধারণত মায়ের মৃত্যুর পর কনিষ্ঠা কন্যা বা নোকনা সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে । তাদের সমাজে যুগল বিবাহ রীতিই বেশি লক্ষ করা যায়। একজন পুরুষ, তার চাচাতো বা খালাতো বোনকে বিবাহ করতে পারে না। অর্থাৎ তাদের সমাজে প্যারালাল কাজিন বিবাহ নিষিদ্ধ। তারা কেবল মামাতো বা ফুপাতো বোনকে বিয়ে করতে পারে। গারোদের প্রধান খাদ্য ভাত ও মাংস। প্রতিটি উৎসব অনুষ্ঠানে মদ (পাচই) তাদের অপরিহার্য পানীয়। গারোদের অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। জুম চাষকে কেন্দ্র করে গারোরা বিভিন্ন ঋতুতে নানারকম উৎসব উদযাপন করে। ওয়ানগালা তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। গারোরা মৃতদেহকে গোসল দিয়ে বাঁশের তৈরি মেঝেতে কমপক্ষে একরাত একদিন রেখে দেয় এবং মৃতদেহের মাথার কাছে নানা খাদ্য যেমন— ডাল, ভাত, ডিম ইত্যাদি রাখে। দ্বিতীয় রাতে মৃতদেহকে পোড়ানো হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, গারোদের জীবন ব্যবস্থাপনা বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ।