উদ্দীপকে মিতার আচরণে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ পেয়েছে । ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ ।
সাধারণ অর্থে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বোঝায়। বিভিন্ন নৃবিজ্ঞানীর সংজ্ঞানুসারে বলা যায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিজস্ব সংস্কৃতির অধিকারী। তারা আধুনিক পেশাসহ এক ধরনের নির্দিষ্ট জীবিকা পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বাস করে। তাদের জীবন একই ধরনের সামাজিক আচার, প্রথা, বিশ্বাস, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয় ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মিতার সাথে উর্মিলার সখ্যতা থাকায়, উর্মিলার আমন্ত্রণে মিতা রাঙামাটি যায়। সেখানে গিয়ে সে বিজু উৎসব উপভোগ করে, যা চাকমা সম্প্রদায়ের একটি উৎসব। এ উৎসবটি তিন দিনব্যাপী পালিত হয়। এ অনুষ্ঠানের তিনটি পর্ব হলো 'ফুলবিজু' 'মূলবিজ' এবং 'নুওবজুর' (নতুন বছর) বা গোজ্যাপোজ্যা। বিজু উৎসব উপভোগ করার পর পরবর্তীতে মিতা এ সম্পর্কিত একটি লেখা দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করে, যা বেশ প্রশংসিত হয়। তার এ কাজের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ পায়। কারণ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সম্পর্কে সাধারণ বাঙালিরা তেমন কিছু জানে না। কিন্তু তার লেখনির মাধ্যমে সবাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে। যার ফলে রাষ্ট্রের সকল মানুষ তাদের সাংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা বৃদ্ধি পাবে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মিতার লেখনি দ্বারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ পেয়েছে ।