উদ্দীপকের আন্দোলন তথা ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও বিকাশে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলার জনগণ সর্বপ্রথম অধিকার সচেতন হয়ে ওঠে। বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে না চাওয়ায় ভাষাগত ঐক্যের ভিত্তিতে বাঙালি প্রতিবাদ করে। পরবর্তী সময়ে তীব্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। ফলে বাঙালিরা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতন হয় এবং অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ বপিত হয় । এ আন্দোলন বাঙালির সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন বয়ে আনে। এ আন্দোলনের চেতনায় বাঙালি বুঝতে পারে ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সর্বোপরি ভাষা আন্দোলনের ফলে আপামর বাঙালির ভেতর এই চেতনা জাগ্রত হয় যে, ধর্মের দিক থেকে বিভিন্নতা থাকলেও সাংস্কৃতিক দিক থেকে বাঙালিরা একই জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এ চেতনা ধর্মভিত্তিক জাতীয়তার পরিবর্তে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয় ।
উপরের আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের ফলে সর্বপ্রথম পৃথক জাতিগোষ্ঠী হিসেবে বাঙালির চেতনা জাগ্রত হয়েছিল, . আর এর ওপর ভিত্তি করেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছিল ।