উদ্দীপকে বর্ণিত প্রিয়া গারো নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য এবং বিমল চাকমা নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য। প্রিয়া ও বিমল উভয়েই ক্ষুদ্র ণৃগোষ্ঠী সদস্য হলেও তাদের পরিবার ও বিবাহ ব্যবস্থা স্বতন্ত্র। নিম্নে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো :
গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। বিয়ের পর গারো দম্পতি স্ত্রীর মায়ের গৃহে বসবাস করে। অপরদিকে চাকমা পরিবার পিতৃতান্ত্রিক। বিয়ের পর চাকমা দম্পতি স্বামীর পিতৃগৃহে বসবাস করে।
গারোসমাজে পারিবারিক সম্পত্তি ও বংশ নাম মা থেকে মেয়েতে বর্তায়। সাধারণত মায়ের মৃত্যুর পর কনিষ্ঠা কন্যা সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে। অন্যদিকে চাকমা সমাজে সন্তানদের বংশ পরিচয় এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকার পিতার সূত্র ধরে নির্ণীত হয়। পিতার মৃত্যুর পর পুত্র সন্তানেরা সমান ভাগে সম্পত্তির মালিক হয়। তবে কন্যারা কোন সম্পত্তি পায় না।
গারোদের মধ্যে একক বিবাহ বেশি দেখা যায় এবং বহুবিবাহ কিংবা বিবাহ বিচ্ছেদ খুবই কম হয়। এছাড়াও গারোরা নিজেদের গোত্রে বিবাহ করতে পারেনা। অর্থাৎ তাদের মধ্যে প্যারালাল কাজিন বিবাহ নিষিদ্ধ। পক্ষান্তরে চাকমা সমাজে অন্তবিবাহ ও বহির্বিবাহ উভয়ই প্রচলিত আছে। এছাড়াও চাকমা সমাজে ক্রস কাজিন ও প্যারালাল কাজিন বিবাহ প্রচলিত থাকলেও, তবে আপন চাচাতো ভাই বোনের মধ্যে বিয়ের বিষয়ে সামাজিক বিধি-নিষেধ রয়েছে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত প্রিয়া ও বিমল উভয়েই ক্ষুদ্র ণৃগোষ্ঠী সদস্য হলেও তাদের পরিবার ও বিবাহ ব্যবস্থা স্বতন্ত্র - উক্তিটি যথার্থ।