উদ্দীপকে উল্লিখিত পার্থিবের বন্ধু ক চাকমা নৃগোষ্ঠীর সদস্য। নিম্নে চাকমাদের জীবনধারা ব্যাখ্যা করা হলো :
বাংলাদেশে বসবাসরত চাকমা নৃগোষ্ঠীর সমাজ ব্যবস্থা চাকমা রাজাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। তাদের সমাজ ব্যবস্থা কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। যথা- আদাম, মৌজা, চাকমা সার্কেল ইত্যাদি। কতগুলো পরিবার নিয়ে আদাম গঠিত হয়। যার প্রধান হলো কারবারি। আবার কতগুলো আদামের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে গ্রাম বা মৌজা। যার প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান। আর কয়েকশো গ্রাম বা মৌজা নিয়ে চাকমা সার্কেল গঠিত হয়। যার প্রধান হচ্ছেন চাকমা রাজা। উদ্দীপকের প্রার্থিবের নতুন বন্ধু "ক" বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য. এদের সমাজের প্রশাসনিক কাঠামো আদাম, মৌজা, সার্কেল এরূপ স্তরে বিভক্ত। প্রত্যেক স্তরে একজন প্রধান ব্যাক্তি কর্তৃত্ব করেন। রাজা ওই সমাজের ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। অর্থাৎ সে চাকমা নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
চাকমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনধারা অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। তারা প্রধানত তিনটি দলে বিভক্ত। যথা চাকমা, তঞ্চঙ্গা ও দৈংনক। চাকমা ও তঞ্চঙ্গা উভয় সমাজের প্রায় ৪৬ টি উপদল বা গঝা রয়েছে। পিতার সূত্র ধরে তাদের সন্তানদের গঝা বাবংশ পরিচয় নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ চাকমাদের পরিবার ব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। ঐতিহ্যগতভাবে চাকমাদের অর্থনীতি জুম চাষের উপর নির্ভরশীল। এছাড়াও বাশ বা বেত দিয়ে তৈরি বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের প্রধান খাদ্য দ্রব্য হচ্ছে ভাত, মাছ, মাংস, সবজি ইত্যাদি। চাকমারা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। তাদের প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু। পুরাতন বৎসরকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করতে তারা এই উৎসব পালন করে।
তাই বলা যায়, চাকমাদের জীবনধারা বিচিত্রপূর্ণ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।