উদ্দীপকের নৃগোষ্ঠী তথা চাকমাদের সাংস্কৃতিক জীবনধারা ঐতিহ্য গত কারণে বাঙালিদের চেয়ে আলাদা।
চাকমাদের সাংস্কৃতিক জীবনধারা অত্যন্ত বর্ণিল। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস অনুষ্ঠানসমূহও ঐতিহ্যবাহী। চাকমা পুরুষদের পরিধেয় বস্ত্রের মধ্যে ধুতি, পাঞ্জাবী, জুম্ম সুলুম, গামছা ইত্যাদি। আবার চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য হলো বাঁশের কোড়াল রান্না। তারা মাছ, সবজি ও ঝাল জাতীয় মসলা বাঁশের মধ্য দিয়ে অল্প আঁচে সিদ্ধ করে। এছাড়া তারা বিভিন্ন বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে থাকে। 'বিজু' হচ্ছে তাদের প্রধান উৎসবের নাম। অত্যন্ত আনন্দের সাথে চাকমারা তিন দিনব্যাপী এ উৎসবটি পালন করে। পাশাপাশি, তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ভাষা রয়েছে যা 'চাঙমা' নামে অভিহিত। তারা বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসী। অন্যদিকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি হাজার বছরের ঐতিহ্যে গড়ে উঠেছে, যেখানে বাঙালি জাতির ইতিহাস, ধর্ম, ভাষা, নৃত্য, পোষাক, উৎসব ও খাদ্যাভ্যাসের সমৃদ্ধ সংমিশ্রণ রয়েছে। বাঙালিরা মাতৃভাষা বাংলাকে ধারণ করে যা তাদের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। "আবার তাদের প্রধান উৎসবগুলোর মধ্যে পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব, একুশে ফেব্রুয়ারি এবং ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শবে বরাত, শবে কদর, দূর্গাপূজা, রথযাত্রা ইত্যাদি। এছাড়াও তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের মধ্যে রয়েছে লুঙ্গি, ধুতি, ফতুয়া, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ ইত্যাদি। বাঙালিদের ঐতিহ্যবাহী খেলার মধ্যে রয়েছে হাডুডু, নৌকা বাইচ, লাঠিখেলা, গুলতি খেলা ইত্যাদি।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভাস, ধর্ম, উৎসব প্রভৃতি দিক থেকে চাকমা ও বাঙালিদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ভিন্নতা রয়েছে।