উদ্দীপকে বর্ণিত শ্যামার তথা গারোদের নৃগোষ্ঠীগত স্বতন্ত্রতা রয়েছে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোণা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, জামালপুর প্রভৃতি জেলায় গারো নৃগোষ্ঠী বসবাস করে। তাদের পরিবার ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। গারোরা নিজেদের ভাষাকে আচিক কুসিক বা পাহাড়ি ভাষা বলে থাকে। তাদের নিজস্ব কোনো লিপি বা অক্ষর নেই। উদ্দীপকের শ্যামা যে নৃগোষ্ঠীর সদস্য তারা ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাস করে। তাদের পরিবারও মাতৃপ্রধান এবং তাদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও আলাদা বর্ণমালা নেই। এ থেকে প্রতীয়মান হয়, শ্যামা গারো নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
গারোরা নৃগোষ্ঠীগতভাবে মঙ্গোলয়েড। গারো সম্প্রদায় দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা- আচ্ছিক ও লামদানি। যারা পাহাড়ের পাদদেশ ও সমতল ভূমিতে বাস করে তাদেরকে লামদানি গারো এবং যারা পাহাড়ের গভীর অরণ্যে বাস করে তাদেরকে আচ্ছিক গারো বলা হয়। তাদের বাসস্থান হলো মাতৃনিবাস বাসস্থান। অর্থাৎ বিয়ের পর স্বামী তার স্ত্রীর বাড়িতে বসবাস করে। তাদের সমাজে খালাতো ভাইবোনের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ। তাদের সমাজে বিবাহ-বিচ্ছেদ হয় না বললেই চলে। খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে তারা বেশ উদারপন্থি। তাদের প্রধান খাদ্য ভাত। পাশাপাশি জোয়ার, ভুট্টা, মহিষ, বন্য শূকর ইত্যাদিও খেয়ে থাকে। গারো সমাজে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালিত হয়ে থাকে। তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব হলো ওয়ানগালা। তাদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও, তাদের নিজস্ব কোনো লিপি নেই। তাদের ঐতিহ্যবাহী আদি ধর্মের নাম হলো সাংসারেক এবং প্রধান দেবতার নাম তাতারা রাবুগা। তারা মৃত্যুর পর মৃতদেহকে মেঝেতে রাখে এবং মৃতদেহের মাথার কাছে বিভিন্ন খাবার রেখে দেয়। তাদের বিশ্বাস আত্মা অমর এবং মৃত্যুর পর আত্মা চিকমাং নামক স্থানে চলে যায়।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, গারোদের নৃগোষ্ঠীগত পরিচয়, ভাষা, সমাজজীবন অন্যান্য নৃগোষ্ঠী থেকে আলাদা প্রকৃতির। অর্থাৎ গারোদের নৃগোষ্ঠীগত স্বতন্ত্রতা রয়েছে।