দৃশ্যকল্প-২ এ শহর সমাজের ক্ষমতা কাঠামোর প্রতি ইঙ্গিত কর হয়েছে।
শহর সমাজের স্তরবিন্যাসে ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। বাংলাদেশের শহর সমাজে ক্ষমতা তিনটি ক্ষেত্রে বণ্টিত হতে দেখা যায়। এগুলো হলো-
১. শাসক এলিট: শাসক এলিট তারাই যারা শাসন ক্ষমতায় আসীন থাকে। তাদের হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দক্ষতার সাথে রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহারে শাসক এলিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন- প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্য। এ তত্ত্বে ক্ষমতার পালাবদল হলেও তা এক এলিট গোষ্ঠীর হাত থেকে অন্য এলিট গোষ্ঠীর হাতে যায়, কিন্তু সাধারণ জনগণ ক্ষমতার বাইরেই থেকে যায়।
২. অশাসক এলিট: অশাসক এলিট বলতে বোঝায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকে, যারা সরকারের সমালোচনা করে এবং আগামীতে ক্ষমতায় আসার অপেক্ষায় থাকে। যেমন-যেকোনো দেশের বিরোধী দল।
৩. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এরা দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করে থাকে। এ শ্রেণির জনগোষ্ঠী নেতৃত্বের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন- মানবাধিকার সংস্থা, মহিলা আইনজীবী সমিতি ইত্যাদি।
সুতরাং বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এ যে শ্রেণিবিভাজন তুলে ধরা হয়েছে তা বাংলাদেশের নগর সমাজের ক্ষমতা কাঠামোর স্তরবিন্যাসকে নির্দেশ করেছে।