উদ্দীপকে মি. 'খ' এর বাবার সামাজিক অবস্থা, গ্রামীণ সামাজিক স্তরবিন্যাসের ভূমিভিত্তিক সামাজিক স্তরবিন্যাসকে প্রতিফলিত করে।
গ্রামীণ সামাজিক স্তরবিন্যাসের মূলভিত্তি হলো ভূমি মালিকানা। ভূমি মালিকানার ভিত্তিতে গ্রামীণ সমাজে চারটি শ্রেণি দেখা যায়। যথা-১. ভূমি মালিক বা ধনী কৃষক, ২. প্রান্তিক কৃষক, ৩. বর্গাদার চাষি বা কৃষক, ৪. ভূমিহীন কৃষক বা কৃষি শ্রমিক। এক্ষেত্রে গ্রামীণ সমাজে যারা বেশি জমির মালিক তারা ধনী কৃষক বা ভূমি মালিক। ধনী কৃষক বা ভূমি মালিক ভূমির উপর নির্ভর করে যথেষ্ট স্বচ্ছল জীবনযাপন করতে পারে। এদের যথেষ্ট প্রভাব প্রতিপত্তি থাকে। সমাজে বিভিন্ন ভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
গ্রামীণ সমাজে দেখা যায়, যারা ভূমির মালিক তারাই মোড়ল, মাতব্বর বা নেতৃস্থানীয় অবস্থানে থাকে। সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার নির্বাচনে ভূমি মালিকরাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্বাচিত হয়ে থাকে। যেমনটি উদ্দীপকের 'খ'-এর বাবার ক্ষেত্রেও দেখা যায়।
উদ্দীপকে পড়াশোনার জন্য মি. 'খ' ঢাকায় আসলে মি. 'ক'-এর সাথে বন্ধুত্ব হয়। কোনো এক ছুটিতে তারা গ্রামে বেড়াতে আসলে মি. 'খ' -এর বাবার জমিজমা দেখে মি. 'ক' অবাক হয়ে যায়। এর কিছুদিন পর মি. 'ক' শুনতে পায় মি. 'খ'-এর বাবা ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। মি. 'খ'-এর বাবার সামাজিক অবস্থা, গ্রামীণ সামাজিক স্তরবিন্যাসের ভূমিভিত্তিক সামাজিক স্তরবিন্যাসেরই প্রতিফলন। যা উপরের আলোচনায় স্পষ্টতই বর্ণনা করা হয়েছে।