উদ্দীপকে বর্ণিত 'খ' সমাজটি হলো শহুরে সমাজ। এ সমাজের বৈশিষ্ট্যগুলো পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
যারা শহরে বাস করে তাদেরকে নিয়েই গড়ে ওঠে শহুরে সমাজ। শহুরে সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শিল্প উৎপাদন ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকানা। শহরের অর্থনীতি মূলত শিল্প, ব্যবসায় বাণিজ্য ও. বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এখানকার মানুষ পরিবর্তনকে খুব সহজেই গ্রহণ করে, কারণ তাদের জীবনযাত্রা নতুন প্রযুক্তি, শিল্পায়ন এবং আধুনিকতার সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। শহুরে সমাজের সম্পর্কগুলো গ্রামীণ সমাজের মতো আন্তরিক নয়, বরং তা অনেকাংশে কৃত্রিম ও স্বার্থনির্ভর।
শহুরে জীবনে পরিবার কাঠামো সাধারণত একক বা অনু পরবারভিত্তিক হয়ে থাকে। এর কারণ হলো দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবনধারা, কর্মব্যবস্তুতা ও ব্যয়বহুল জীবনযাপন। শিল্পায়ন শহরে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে, যার ফলে গ্রামের মানুষ কর্মের সন্ধানে শহরে আসে। নতুন নতুন মানুষের আগমন ও কর্মসংস্থানের ফলে বহুমুখী সম্পর্ক তৈরি হয়, যা সাধারণত ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। শিল্প ও প্রযুক্তির বিকাশ শহরে দ্রুত সামাজিক পরিবর্তন ঘটায় এবং মানুষ সেই পরিবর্তনের সাথে সহজেই খাপ খাইয়ে নেয়।
অতএব বলা যায়, শহুরে সমাজের বৈশিষ্ট্যগুলো একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। শিল্প উৎপাদন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে, কর্মসংস্থান কৃত্রিম সম্পর্কের জন্ম দেয়, কৃত্রিম সম্পর্ক ও দ্রুত পরিবর্তন একক পরিবার ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করে। ফলে শহুরে সমাজ একটি গতিশীল, পরিবর্তনমুখী ও পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ভর সমাজে রূপ নেয়।