উদ্দীপক-২ এ শহুরে সমাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শহুরে সমাজে পেশার বৈচিত্র লক্ষণীয় - নিম্নে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো :
কৃষি কাজ ছাড়াও বিভিন্ন পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করে, এমন সীমিত এলাকার জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সমাজ গঠিত। শহরে সাধারণত অকৃষিজ পেশার প্রাধান্য, শিল্প ভিত্তিক উৎপাদন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নানা পেশাজীবী মানুষের সমাবেশ ইত্যাদি বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য পুলিশ, আনসার ইত্যাদি থাকে। এর পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে ও আইন ভঙ্গকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে শহরে বিভিন্ন ধরনের অফিস আদালত শিল্প প্রতিষ্ঠান কলকারখানা ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। আর এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হয় ভিন্ন ভিন্ন দক্ষতা এবং পেশার মানুষ। কলকারখানায় শিল্প উৎপাদনের জন্য যেমন প্রকৌশলী ও শ্রমিক প্রয়োজন, তেমনি অফিস পরিচালনায় প্রয়োজন বিভিন্ন কর্মকর্তা, আদালতে প্রয়োজন বিচারক ও আইনজীবী। আবার হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজন ডাক্তার, নার্স ইত্যাদি। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজন পুলিশ আনসার ইত্যাদি। এরূপ বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড শহরে হয়ে থাকে বিধায় এখানে বিভিন্ন ধরনের পেশার মানুষেরও উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
তাই বলা যায়, শিল্পভিত্তিক উৎপাদননির্ভর অর্থনীতি হওয়ায় এবং মানুষের জীবনব্যবস্থা বৈপরীত্যে পরিপূর্ণ হওয়ায় শহুরে সমাজে পেশার বৈচিত্র লক্ষণীয়।