উদ্দীপকের আল গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থা এবং শাওন সাহেব শহুরে সমাজ ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে। নিম্নে গ্রামীণ ও শহুরে সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা হলো :
গ্রামীণ সমাজ মূলত কৃষিনির্ভর পেশাভিত্তিক জনসমষ্টি। তারা সাধারন ঐতিহ্য, প্রথা, রীতিনীতি ও সংস্কৃতির দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে একত্রে বসবাস করে। অপরদিকে শহরে সমাজ একটি সীমিত এলাকার জনগোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা কৃষি ব্যতীত অন্যান্য পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। গ্রামীণ সমাজের অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। কিন্তু শহুরে সমাজে অকৃষিভিত্তিক অর্থনীতি লক্ষ্য করা যায়। শিক্ষার দিক দিয়ে আবার গ্রাম শহরের তুলনায় অনেক গুণ পিছিয়ে, কেননা দেশের সনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ শহরে অবস্থিত।
গ্রামীন সমাজের ক্ষমতা কাঠামো অনেকাংশে ঐতিহ্যনির্ভর এবং ভূমির মালিকানার সাথে সম্পৃক্ত। অন্যদিকে শহরে বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচিত বা মনোনীত সদস্য, আমলা, শিল্পপতি প্রভৃতি শ্রেণী ক্ষমতা ও মর্যাদার বাহক। গ্রামীণ সমাজে আন্তরিকতা ও হৃদ্যতার সম্পর্কে প্রাধান্য থাকলেও শহরে নৈর্ব্যক্তিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শহরে আধুনিক শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠীর বাস এবং তাদের মধ্যে সামাজিক গতিশীলতা বেশি। কিন্তু গ্রামীণ জীবনে প্রথাগত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রভাব বেশি এবং সামাজিক গতিশীলতা অনেক কম।