উদ্দীপকের কবির মিয়া গ্রামীণ সমাজের এবং ফারুক সাহেব শহুরে সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন। নিম্নে উভয় সমাজের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করা হলো :
গ্রামীণ সমাজ বলতে কৃষি নির্ভর, পেশাভিত্তিক জনসমষ্টিকে বুঝায়। যারা সাধারণ ঐতিহ্য, প্রথা, রীতি,-নীতি ও সংস্কৃতির দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে একত্রে বসবাস করে। উদ্দীপকের কবির মিয়া যেহেতু মাটির ঘরে বসবাস করেন এবং পেশায় একজন কৃষক, সেহেতু তিনি গ্রামীণ সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। অন্যদিকে শহুরে সমাজ বলতে এমন এক সীমিত এলাকার জনগোষ্ঠীকে বোঝায় যারা কৃষি ব্যতীত অন্যান্য পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। উদ্দীপকের ফারুক সাহেব সচিবালয়ে চাকরি করেন। এটি যেহেতু একটি অকৃষিজ পেশা, সেহেতু তিনি শহুরে সমাজের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
অর্থনৈতিক দিক থেকে গ্রামীন ও শহুরে সমাজের মধ্যে প্রধান বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। গ্রামীণ সমাজের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর হলেও শহুরে সমাজে অকৃষিভিত্তিক অর্থনীতি দেখা যায়। এছাড়াও গ্রামীণ সমাজের ক্ষমতা কাঠামো অনেকাংশে ঐতিহ্য নির্ভর ও ভূমি মালিকানার উপর নির্ভরশীল হলেও শহরে বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচিত বা মনোনীত সদস্য, আমলা, শিল্পপতি প্রভৃতি শ্রেণী ক্ষমতা ও মর্যাদার ধারক বাহক। এছাড়াও শিক্ষা সুযোগের দিক থেকেও গ্রামীণ সমাজ শহরের তুলনায় বেশ পিছিয়ে। গ্রামীণ সমাজে যেখানে আন্তরিকতা ও হৃদ্যতার সম্পর্কের প্রাধান্য থাকে, সেখানে শহরে নৈর্ব্যক্তিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শহরে আধুনিক, শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠীর বাস এবং তাদের মধ্যে সামাজিক গতিশীলতাও বেশি। কিন্তু গ্রামীণ জীবনে প্রথাগত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রভাব বেশি এবং সামাজিক গতিশীলতা অনেক কম।