তাসলিমার ছোট ভাই গ্রামীণ সমাজে বসবাস করছে। নিম্নে গ্রামীণ সমাজের গতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার চিত্র বিশ্লেষণ করা হলো :
গ্রামীণ সমাজ মূলত কৃষি নির্ভর, কমবসতিপূর্ণ অঞ্চল এবং এখানে শক্তিশালী পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বিদ্যমান। বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন পেশা নিয়ে যেতে থাকলেও, কৃষিই তাদের প্রধান পেশা। উদ্দীপকের তাসলিমার ছোট ভাই মাঠে ফসল ফলানোকে পছন্দ করে। অর্থাৎ সে কৃষিকাজ করে। যা গ্রামীণ সমাজকে নির্দেশ করে।
গ্রামীণ অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। বর্তমানে কৃষিতে সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কৃষকরা অধিক মাত্রায় ফসল উৎপাদন করতে পারছে। এতে তাদের জীবনযাত্রা মান পরিবর্তিত হচ্ছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়নের ফলে গ্রামীণ সমাজ জীবনে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। গ্রামের মানুষ এখন সহজে এক স্থান থেকে আয় অন্য স্থানে যেতে পারছে। যা শ্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি করছে। ফলাফলস্বরূপ গ্রামের মানুষ কেবল ভূমির উপর নির্ভর না করে অন্যান্য পেশার সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। আবার শিক্ষার হার বৃদ্ধির ফলে মানুষ আত্মসচেতন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে গ্রামীন শিক্ষিত জনগোষ্ঠী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ অকৃষিজ পেশায় বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। তাছাড়া দেশে আগের তুলনায় বর্তমানে কর্মসংস্থানের বহুবিধ খাত সৃষ্টি হওয়ায় গ্রামের মানুষ চাষাবাদের তুলনায় অন্যান্য পেশার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।
তাই বলা যায়, বর্তমান সময়ে গ্রামীণ সমাজের অর্থনীতিতে গতিশীলতা এসেছে, তবে এটি শহরে তুলনায় অনেক কম।