উদ্দীপকে বর্ণিত রামজীবন ইউনিয়নের ওয়ার্ডগুলোর বৈষম্যের সাথে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলে তৎকালীন পূর্ব বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ) পাকিস্তানের একটি প্রদেশে পরিণত হয়। ফলে পাকিস্তানে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নামে দুটি প্রদেশের সৃষ্টি হয়। পশ্চিম পাকিস্তান নানাভাবে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতে থাকে। ১৯৪৭ সালের পর থেকে পাকিস্তান তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা হাতে নেয়। যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য খুবই কম বরাদ্দ ছিল। ১৯৪৭-১৯৭০ সাল পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয়ে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ছিল ৫৪.৭%। অথচ রপ্তানি আয় বেশি করলেও পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আমদানি ব্যয় ছিল মাত্র ৩১.১%। রপ্তানি আয়ের উদ্বৃত্ত অংশ পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ব্যয় করা হয় এবং সব ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন পশ্চিম পাকিস্তানেই করা হয়। সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা পশ্চিম পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয়। আবার চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে অবজ্ঞা করা হতো এবং পশ্চিম পাকিস্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রামজীবন ইউনিয়নের লেংগা খালের পূর্ব পাড়ের ৪টি ওয়ার্ড সর্বদা বৈষম্যের শিকার হয়। কারণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পশ্চিম পাড়ের। এজন্য তিনি সকল প্রকল্প পশ্চিম পাড়েই বাস্তবায়ন করেন। উদ্দীপকের এরূপ আলোচনা উপরে আলোচিত বাংলাদেশের বৈষম্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।