উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬৯, ১৯৭০ ও ১৯৭১ সালগুলো বাংলাদেশের গৌরবময় রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
পাকিস্তানের ছিল দুটি অংশ। পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ অংশের নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান। অপর অংশটি পশ্চিম পাকিস্তান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। শুরু থেকেই পাকিস্তানের শাসনভার পশ্চিম পাকিস্তানের ধনিকগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। পূর্ববাংলার ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থা পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের করায়ত্ত করতে শুরু করে এবং বৈষম্য সৃষ্টি করে। এর বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ' প্রতিবাদ ও আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলে।
মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৫২ সালে রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনও ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মাধ্যমে পূর্ব বাংলার বাংলাভাষী বাঙালি জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হয়। মাতৃভাষা রক্ষার চেতনা থেকে পূর্ব বাংলার জনগণ ক্রমান্বয়ে পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ১৯৬৯-এ গণ-অভ্যুত্থান গড়ে তোলে। ঐতিহাসিক ছয় দফার ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে ভোট প্রদানের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার জনগণ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। বাংলা ভাষা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতিগত পরিচয়ে জাতীয় ঐক্য গঠিত হয়। এ জাতীয় ঐক্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। এ বাঙালি জাতীয়তাবাদই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে জনগণকে অনুপ্রাণিত করে। এরই ধারাবাহিকতায় নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে অর্জিত হয় আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে সালগুলো ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।