হ্যাঁ, উদ্দীপকে নির্দেশিত আন্দোলনটি অর্থাৎ ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি। এ বক্তব্যটির সাথে আমি পুরোপুরি একমত।
১৯৫২ সালের বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন বিশ্বের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা হিসেবে খ্যাত। সারা বিশ্বে ভাষার জন্য বাঙালিদের মত এত রক্ত আর কোনো জাতিকে দিতে হয়নি। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাঙালিদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা জাগ্রত হয় এবং জনগণের মধ্যে নতুন জাতীয়তাবাদ চেতনার উন্মেষ ঘটে। এ চেতনা ক্রমেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয় এবং বাঙালিদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করে।
ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালিদের মধ্যে যে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয় সে জাগ্রত আকাঙ্ক্ষা থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয় তা ক্রমেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে। আর এর চূড়ান্ত পরিণতি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মুক্তিকামী বাঙালিরা জয়লাভকরে এবং অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা।
উপরের বর্ণিত আলোচনায় স্পষ্টত প্রতীয়মান যে, ভাষা আন্দোলনই বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি। সুতরাং, মতামতটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।